ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, জরুরি অবস্থা, স্ত্রীসহ প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 119
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ২ জানুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাত শনিবার গভীর রাতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে দেশটির সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এ বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করার কথা জানিয়ে সিএনএনের একদল সাংবাদিক বলেছেন, ঘটনার পর শহরের বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

বিবিসি লিখেছে, এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি হয়। সিএনএনের সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ বলেন, “একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সেটির প্রভাবে আমার জানালার কাঁচ কাঁপছিল।” বিস্ফোরণের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কারাকাসে অবস্থানরত সিএনএনের সাংবাদিকরা বিস্ফোরণের পর আকাশে বিমানের শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতে শহরের আলোঝলমলের মধ্যে আকাশে দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। একটি কুণ্ডলীর নিচের অংশে কমলা আভা দেখা যায়। একটি কুন্ডলীর নিচে আগুনের আভা দেখা যায়। এরপর অন্য একটি স্থানে আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এফেক্টো কোকুইও এবং তাল কুয়াল ডিজিটাল জানিয়েছে, কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরা রাজ্য এবং মিরান্ডা রাজ্যের উপকূলীয় শহর হিগুয়েরোতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে, ভেনেজুয়েলার ‘মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থলভাগে ‘শিগগির’ হামলা শুরু হবে বলেও তিনি সতর্ক করে আসছিলেন। এর আগে গত অক্টোবরে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি থেকে অবৈধ অভিবাসী ও মাদকের চালান ঠেকাতে সিআইএ’কে ভেনেজুয়েলার ভেতরে অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনাকে ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। এক বিবৃতিতে কারাকাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করতেই এই হামলা চালাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশজুড়ে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন এবং বাইরের অস্থিরতা মোকাবেলায় ডিক্রি জারি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে দেশবাসীকে এ ‘সাম্রাজ্যবাদী হামলার’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী আটকের কথা জানালেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, তাদের আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে করা পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সাফল্যজনকভাবে একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে আর দেশটির নেতা, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে, যিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, আটক করে আকাশ পথে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।

রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৯ সালে পানামায় আক্রমণ করার পর থেকে লাতিন আমেরিকায় এ ধরনের সরাসরি হস্তক্ষেপ আর করেনি। ৩৬ বছর আগের ওই ঘটনায় মার্কিন বাহিনী পানামায় অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন সামরিক নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে পদচ্যুত করে ও তারপর আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়েছিল।

ট্রাম্প মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের কথা জানালেও ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি নিশ্চিত করেনি।

মাদুরো একটি ‘মাদক-রাষ্ট্র’ পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি নির্বাচনে কারচুপি করেছেন বলেও অভিযোগ ওয়াশিংটনের। অপরদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো পাল্টা অভিযোগ করে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন তার দেশের জ্বালানি তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেলের মজুদ আছে ভেনেজুয়েলায়। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট উগো চাভেসের পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন মাদুরো।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করেছে। ডেল্টা ফোর্স মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, জরুরি অবস্থা, স্ত্রীসহ প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ২ জানুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাত শনিবার গভীর রাতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে দেশটির সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এ বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করার কথা জানিয়ে সিএনএনের একদল সাংবাদিক বলেছেন, ঘটনার পর শহরের বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

বিবিসি লিখেছে, এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি হয়। সিএনএনের সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ বলেন, “একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সেটির প্রভাবে আমার জানালার কাঁচ কাঁপছিল।” বিস্ফোরণের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কারাকাসে অবস্থানরত সিএনএনের সাংবাদিকরা বিস্ফোরণের পর আকাশে বিমানের শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতে শহরের আলোঝলমলের মধ্যে আকাশে দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। একটি কুণ্ডলীর নিচের অংশে কমলা আভা দেখা যায়। একটি কুন্ডলীর নিচে আগুনের আভা দেখা যায়। এরপর অন্য একটি স্থানে আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এফেক্টো কোকুইও এবং তাল কুয়াল ডিজিটাল জানিয়েছে, কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরা রাজ্য এবং মিরান্ডা রাজ্যের উপকূলীয় শহর হিগুয়েরোতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে, ভেনেজুয়েলার ‘মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থলভাগে ‘শিগগির’ হামলা শুরু হবে বলেও তিনি সতর্ক করে আসছিলেন। এর আগে গত অক্টোবরে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি থেকে অবৈধ অভিবাসী ও মাদকের চালান ঠেকাতে সিআইএ’কে ভেনেজুয়েলার ভেতরে অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনাকে ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। এক বিবৃতিতে কারাকাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করতেই এই হামলা চালাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশজুড়ে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন এবং বাইরের অস্থিরতা মোকাবেলায় ডিক্রি জারি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে দেশবাসীকে এ ‘সাম্রাজ্যবাদী হামলার’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী আটকের কথা জানালেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, তাদের আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে করা পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সাফল্যজনকভাবে একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে আর দেশটির নেতা, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে, যিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, আটক করে আকাশ পথে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।

রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৯ সালে পানামায় আক্রমণ করার পর থেকে লাতিন আমেরিকায় এ ধরনের সরাসরি হস্তক্ষেপ আর করেনি। ৩৬ বছর আগের ওই ঘটনায় মার্কিন বাহিনী পানামায় অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন সামরিক নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে পদচ্যুত করে ও তারপর আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়েছিল।

ট্রাম্প মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের কথা জানালেও ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি নিশ্চিত করেনি।

মাদুরো একটি ‘মাদক-রাষ্ট্র’ পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি নির্বাচনে কারচুপি করেছেন বলেও অভিযোগ ওয়াশিংটনের। অপরদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো পাল্টা অভিযোগ করে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন তার দেশের জ্বালানি তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেলের মজুদ আছে ভেনেজুয়েলায়। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট উগো চাভেসের পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন মাদুরো।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করেছে। ডেল্টা ফোর্স মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট।