ইরানে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে The Jerusalem Post। ইরানে হামলা চালানোর বিষয়টি জানিয়ে ইসরায়েল একে “পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ” বলে উল্লেখ করেছে।
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। Fars News Agency জানিয়েছে, রাজধানীর রিপাবলিক এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার রিপোর্ট তারা পেয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz দেশজুড়ে “বিশেষ এবং স্থায়ী জরুরি অবস্থা” জারি করেছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দেশের আকাশসীমা বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানে হামলার প্রেক্ষাপটে শনিবার বেসামরিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে।
এর আগে গত ২২ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালায়। স্থাপনাগুলো হলো—ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান। এর মধ্যে ফোর্দো একটি দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় আকস্মিক আক্রমণ চালিয়েছিল। তখন ইসরায়েল দাবি করে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahuর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান অচিরেই পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান সে সময় ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
এদিকে পারমাণবিক চুক্তিতে সমঝোতা না হলে ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তাঁর এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প একে “আর্মাডা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী, একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি বহনকারী বিমান।
গত মাসে প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি ওই হুমকি দিয়েছিলেন।