ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে ছয়জন বিএনপি নেতাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ কেউ সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। আবার কেউ দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট করপোরেশনগুলো পুনর্গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিন বলেন, "২০২৪ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যক্তি পর্যায়ে এই ছয়জনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।"
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
এই সিটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. আব্দুস সালাম।
তিনি এক সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রধান নির্বাচনি এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুস সালাম।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
এ সিটির প্রশাসক হয়েছেন বিএনপি নেতা মো. শফিকুল ইসলাম খান।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। সেখানে তিনি শফিকুর রহমান-এর কাছে পরাজিত হন।
খুলনা সিটি করপোরেশন
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খুলনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য এবারের নির্বাচনেও একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
সিলেট সিটি করপোরেশন
জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেট সিটির প্রশাসক করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে তিনি সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন না দিয়ে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে তাকে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন।
২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। এবারের সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের মনোনয়ন চাইলেও পাননি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকারকে গাজীপুর সিটির প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত সংসদ নির্বাচনে তিনি গাজীপুর-২ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।
আগের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৯ অগাস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।