ধর্ষণের বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে নরসিংদী সদর উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের পরিচয় ও বসবাস
নিহত কিশোরী সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি এলাকার ভাড়াটিয়া পরিবারে বসবাস করত। তার বাবা একটি টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও ওই কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আগের ধর্ষণের অভিযোগ
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তাকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারটি মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে যায়। তবে পরিবারটির দাবি, তারা বিচার পায়নি। বরং মীমাংসার পর এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল।
অভিযোগ করায় ক্ষোভ ও অপহরণ
পরিবারের পক্ষ থেকে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় নূরাসহ অভিযুক্ত তরুণেরা ক্ষুব্ধ হন বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে বাবা মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন তরুণ কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পাননি।
লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে স্থানীয় লোকজন কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বড় ভাইয়ের বক্তব্য
নিহত কিশোরীর বড় ভাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেম্বার সাহেব বলছিল, মীমাংসা কইরা দিব। এ ছাড়া মীমাংসার পর এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছিল। আমরা তারে বলছিলাম, ১ তারিখে এলাকা ছেড়ে চলে যাব। গতকাল রাত ৮টার দিকে আব্বা তারে (কিশোরী) নিয়া খালার বাড়ি যাচ্ছিল। পথে বিলপাড় এলাকা পার হওয়ার সময় তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে নূরাসহ ছয়জন। পরে তারা আমার বোনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সারাটা রাত তারে খুঁজছি। আজ সকালে শর্ষেখেতে তাঁর লাশ পাইলাম। আমরা মামলা করতে থানায় যাব। যারা আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করল, আমরা তাদের বিচার চাই।’
অভিযুক্তদের অবস্থা
ঘটনার পর অভিযুক্ত নূরাসহ সংশ্লিষ্ট তরুণেরা আত্মগোপনে রয়েছেন। কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পর সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহকেও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মহিষাশুড়ার সাবেক এক ইউপি সদস্যের কাছে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার পর নূরা নামের এক ব্যক্তি ওই কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে। তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় বিচার চাইতে থানায় আসা উচিত ছিল পরিবারটির। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।