ঢাকা ১২ ফাল্গুন ১৪৩২, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ১২ ফাল্গুন ১৪৩২, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সর্বশেষ
১৭ মাস পর কলকাতা-ঢাকা -আগরতলায় বাস চলাচল শুরু সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্পিকারের আসনে বসবেন কে? ১৯৭৩ সালের নজির কি অনুসরণ হবে? সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা–মা, দুই বোনকে হারালো শিশু ফাইজা ট্রাইব্যুনাল থেকে সরানো হল যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী তাজুলকে ৬ সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ সিরাজগঞ্জে জামায়াত-বিএনপি দ্বন্দ্বে মসজিদে তালা শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা দেওয়া চালু করছে বাংলাদেশ ঈদের আগে ইমাম–মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেবে সরকার শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো জামায়াত আমির, যে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলেন না চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে হটলাইন চালু করলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু ১০ দিনের আলটিমেটাম ট্রাম্পের: ইরান চুক্তিতে না এলে ‘ভয়াবহ কিছু’র হুমকি তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারে বড় ধাক্কা: অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্স অ্যান্ড্রু সুইডেন প্রবাসী আনিকার খেলবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে রমজানেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কাউন্সিল হাউজিং উন্নয়নে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ অনুমোদন সম্পত্তি বিরোধে বাবার লাশ আটকে রাখল সন্তানরা দক্ষিণ আফ্রিকায় লাশ হলো পটিয়ার ফাহাদ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন: জামায়াতের বাড়ছে ১১ আসন শান্তি ফিরিয়ে আনাই প্রধান অগ্রাধিকার, সারাদেশে রেল যোগাযোগ: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আদালতে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোজায় বন্ধ, রাতে এলো ঘোষণা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের বার্তা দিলেন প্রবাসী মন্ত্রী নুর বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন হাবিবুল বাশার যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন মির্জা ফখরুল স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে যা লিখেছেন তারেক রহমান শেখ সেলিম পরিবারসংশ্লিষ্ট ৩ জন মন্ত্রী-এমপি কেমন হলো নতুন মন্ত্রিসভা? বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, উপনেতা তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ

সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্পিকারের আসনে বসবেন কে? ১৯৭৩ সালের নজির কি অনুসরণ হবে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্পিকারের আসনে বসবেন কে? ১৯৭৩ সালের নজির কি অনুসরণ হবে?
জাতীয় সংসদ ভবন

সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন যাত্রা হোক বা নতুন অধিবেশনের সূচনা—উভয় ক্ষেত্রেই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আসন হলো স্পিকারের চেয়ার। সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধির আলোকে নির্ধারিত হয়, প্রথম বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন। প্রচলিতভাবে নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্পিকার, আর তিনি অনুপস্থিত থাকলে প্যানেল স্পিকার সভা পরিচালনা করেন। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারান্তরীণ—ফলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের ফল, সরকার গঠন ও অধিবেশন আহ্বান

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শক্রমে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন।

সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশন ডেকেছেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ এর পরিচালক (উপসচিব) মো. এমাদুল হকের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

কার্যপ্রণালি বিধির ব্যাখ্যা: কে করতে পারেন সভাপতিত্ব?

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২১ ধারায় উল্লেখ আছে, স্পিকার অথবা সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধির অধীনে যোগ্য কোনো সদস্য সভাপতিত্ব করলে বৈঠক বৈধ বলে গণ্য হবে। এ ব্যাখ্যার ভিত্তিতে কেউ কেউ মনে করছেন, যেকোনো সংসদ সদস্যই প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারেন।

আবার ১২(২) বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো বৈঠকে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা অনুপস্থিত থাকলে সচিব সংসদকে বিষয়টি জানাবেন এবং প্রস্তাবের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতিত্বের জন্য নির্বাচন করা হবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—সংসদের প্রথম বৈঠকের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে কি না।

১৯৭৩ সালের নজির: জ্যেষ্ঠ সদস্যকে দায়িত্ব

১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ এক সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবারও সেই রীতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

এ ছাড়া সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাইতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ১৫ মার্চের আগে আহূত অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি সভা পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও সরকারের অবস্থান

২২ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে এক বৈঠকে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন,
“প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। সেই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। সুপ্রস্তাব হবে প্রথামাফিক এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে। আর অন্য বিষয়গুলো হবে সংসদের নৈমিত্তিক কার্যক্রম।”

তবে প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন,
“এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মনোনীত (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে) কোনো ব্যক্তি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সভাপতিত্ব করতে পারেন।”

অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেন,
“সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী এই শূন্যতা পূরণ করতে রাষ্ট্রপতি একজনকে প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব দিতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হবে যদি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নেন। তখন ভবিষ্যতে আর এ নিয়ে বিতর্ক তৈরির অবকাশ থাকবে না।”

প্রথম বৈঠকের সম্ভাব্য কার্যক্রম

১২ মার্চের প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হবে। পরে রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি বৈঠক পুনরায় শুরু হবে।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন ও শোক প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। বিগত সংসদের পর জারি হওয়া সব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করবেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী।

দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করবেন চিফ হুইপ। এরপর এ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা হবে।

শপথ ও নতুন সরকারের যাত্রা

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ২৯৭টি আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান। একই দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়।