আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করবেন।
এই পদে তিনি অ্যাটর্নি-জেনারেলের সমপর্যায়ের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
নতুন চিফ প্রসিকিউটরের পরিচয়
হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম ১৯৯৩ সালের ২৭ মে হাই কোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত হন।
তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল
একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
তাজুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুনর্গঠন ও নতুন নিয়োগ
গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। সেই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রধান কৌঁসুলির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাজুল ইসলামকে।
এ ছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের আরও চার আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তারা হলেন—
-
মো. মিজানুল ইসলাম
-
গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম
-
বি এম সুলতান মাহমুদ
-
আব্দুল্লাহ আল নোমান
ট্রাইব্যুনালের প্রেক্ষাপট
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বর্তমানে সেখানে ওই সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিচার চলছে।
এরই মধ্যে এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়টি মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মামলার কার্যক্রমও পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।