ঢাকা ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে শোকের মাতম : উল্লাস করছে কারা? ইরানের হামলার পরিণতি: আমিরাতে এক বাংলাদেশি নিহত খামেনির অবস্থান কীভাবে চিহ্নিত হয়, হত্যা করল কীভাবে? চাপের মুখে মাথা নত না করা ইরানি নেতা খামেনি, যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক, জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার প্রেসিডেন্টের ইরানের পাল্টা হামলার মুখে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল খুলনায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা ডান্ডাবেড়ি পায়ে বাবাকে শেষবারের মতো দেখলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ধানমন্ডিতে মহিলা আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল পাকিস্তান সেবা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতায় ইস্ট লন্ডন মসজিদের পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা লন্ডনে সিভিক অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত সাংবাদিক তাইসির মাহমুদ নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়া কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যা ৫ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড ওয়ারফেজ–কে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ এমপি টিউলিপকে গ্রেপ্তারে ‘রেড নোটিস’ জারির পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের যুক্তরাজ্যের ৫১৮ ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ ফিতরা সর্বনিম্ন ১১০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৮০৫ পোশাক ব্যবসায়ীকে গভর্নর বানালো সরকার, ইতিহাসে প্রথম কারা খুলছে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, আসল পরিকল্পনা কী? ১৭ মাস পর কলকাতা-ঢাকা -আগরতলায় বাস চলাচল শুরু সংসদের প্রথম অধিবেশন: স্পিকারের আসনে বসবেন কে? ১৯৭৩ সালের নজির কি অনুসরণ হবে? সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা–মা, দুই বোনকে হারালো শিশু ফাইজা ট্রাইব্যুনাল থেকে সরানো হল যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী তাজুলকে ৬ সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ সিরাজগঞ্জে জামায়াত-বিএনপি দ্বন্দ্বে মসজিদে তালা শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা দেওয়া চালু করছে বাংলাদেশ

চাপের মুখে মাথা নত না করা ইরানি নেতা খামেনি, যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

চাপের মুখে মাথা নত না করা ইরানি নেতা খামেনি, যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন।

রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) ভোরে ইরানের সরকারি ও বেসরকারি সব গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

Al Jazeera-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, শনিবার নিজ বাসভবনে চালানো যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, খামেনি ও অন্য ইরানি কর্মকর্তারা “মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারির হাত থেকে পালাতে পারেননি।”

ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানায়, “আমেরিকা ও ইহুদিরাষ্ট্রপন্থী (জায়নিস্ট) শাসনের যৌথ হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা মহামান্য আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যিদ আলি খামেনি শহীদ হয়েছেন।”

বিপ্লব-পরবর্তী উত্থান ও ক্ষমতার কেন্দ্রে

১৯৮৯ সালে ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র মৃত্যুর পর খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শিক নেতৃত্বে ছিলেন খোমেনি।

খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইরানকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তার সময়েই সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো আরও সুসংগঠিত হয়, যা দেশের প্রতিরক্ষা এবং সীমান্তের বাইরে প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

BBC-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৯ সালের পর থেকে খোমেনি ও খামেনি—এই দুজনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পদ একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের ক্ষমতা বহন করে।

যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা ও পশ্চিমবিরোধী মনোভাব

সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলো যখন ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেন-কে সমর্থন দেয়, তখন বহু ইরানির মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ অভিজ্ঞতা খামেনির পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে দেয়। তার ধারণা ছিল, ইরানকে সবসময় বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইরান-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর Al Jazeera-কে বলেন, অনেকে ইরানকে শুধু ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখেন। কারণ খামেনি পাগড়ি পরতেন এবং রাষ্ট্রীয় ভাষা ছিল ধর্মীয় ভাষা। কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন যুদ্ধ-পরবর্তী নেতা, যার কাছে নিরাপত্তা ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার দৃষ্টিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র, বিপ্লব ও জাতীয়তাবাদ অবিচ্ছেদ্য।

জটিল ক্ষমতার কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু

খামেনি পুরোপুরি স্বৈরশাসক না হলেও তিনি একটি জটিল ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্রে অবস্থান করতেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। জননীতির বিষয়ে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা ছিল তার হাতে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রার্থী বাছাইয়েও তার সরাসরি প্রভাব ছিল।

দেশের তরুণ প্রজন্ম তার শাসনামলেই বেড়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার কার্যক্রম নিয়মিত সম্প্রচারিত হতো; জনসমাগমস্থলে ও দোকানপাটে তার প্রতিকৃতি দৃশ্যমান ছিল সর্বত্র।

শৈশব, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন খামেনি। আট সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা ছিলেন শিয়া ইসলামের মধ্যম পর্যায়ের একজন আলেম। নিজের শৈশবকে তিনি “দরিদ্র কিন্তু ধার্মিক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। ১১ বছর বয়সে ধর্মীয় শিক্ষা শেষ করে আলেম হিসেবে স্বীকৃতি পান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হন। শাহবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেওয়ার কারণে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

বিপ্লব, জিম্মি সংকট ও প্রেসিডেন্ট পদে আরোহন

ইসলামি বিপ্লবের পর খোমেনি তাকে তেহরানের জুমার নামাজের ইমাম নিয়োগ দেন। তার সাপ্তাহিক রাজনৈতিক ভাষণ সারা দেশে সম্প্রচারিত হতো।

এই সময় মার্কিন দূতাবাস দখল ও ৪৪৪ দিনের জিম্মি সংকট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে চরম শত্রুতার দিকে ঠেলে দেয়। খামেনি এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন।

১৯৮১ সালে এক বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি; ডান হাত স্থায়ীভাবে অবশ হয়ে যায়। একই বছর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ-আলি রাজাই নিহত হলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

অভ্যন্তরীণ দমন ও পররাষ্ট্রনীতি

১৯৯৯ সালের ছাত্র আন্দোলন, ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভ, ২০১৯ সালের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি বিরোধী আন্দোলন—সবই কঠোরভাবে দমন করা হয়। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে; শত শত মানুষ নিহত ও হাজার হাজার আটক হন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি।

আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানকে প্রায়ই “একঘরে রাষ্ট্র” বলা হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরানকে “অ্যাক্সিস অব ইভিল”-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলে। ২০১৫ সালে একটি পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২০১৮ সালে ট্রাম্প তা থেকে সরে দাঁড়ান এবং পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরবর্তীতে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি-কে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।

শেষ অধ্যায় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

২০২৫ সালে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। ২০২৬ সালের শুরুতে অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা কঠোরভাবে দমন করা হয়।

খামেনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে অস্বীকৃতি জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

অবশেষে যৌথ হামলায় তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক অধ্যায়ের রক্তাক্ত পরিসমাপ্তি ঘটল। এখন প্রশ্ন উঠছে—তার উত্তরসূরি কে হবেন? ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

নিউজ: আল-জাজিরা ও বিবিসি অবলম্বনে।