ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় চার দেশ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক যৌথ হামলার পর উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো—যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—ইরানের পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান সরকার নিশ্চিত করে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক স্থানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে বলা হয়, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্জাম সংবলিত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি
ইরানের ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী’ আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, “শত্রু সন্দেহাতীতভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান নিরলসভাবে চলবে।”
তারা আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা সব মার্কিন সম্পদ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। খবর প্রকাশ করেছে Al Jazeera।
রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে হামলার দাবি
সৌদি আরব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান তাদের রাজধানী রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “কোনো অজুহাত বা কোনোভাবে এই আক্রমণগুলোকে নায্যতা দেওয়া যায় না। আর ইরানি কর্তৃপক্ষ জানে যে সৌদি আরব নিশ্চিত করেছিল, ইরানে হামলা চালাতে তাদের আকাশপথ ও ভূখণ্ড ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না, তা সত্ত্বেও এসব হামলা চালানো হলো।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সৌদি আরব নিশ্চিত করছে যে নিরাপত্তা রক্ষা এবং অঞ্চল, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তারা, এরমধ্যে অন্যায্য আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিকল্পও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”
বাদশা ফাহাদ বিমান ঘাঁটির ভিডিও
সামাজিক মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে বাদশা ফাহাদ বিমান ঘাঁটি-তে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
আবারও পাল্টা হামলার নিশ্চিতকরণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিসমৃদ্ধ দেশগুলো ইরানের পাল্টা হামলার মুখে পড়ে।
শনিবার ইরান সরকার পুনরায় নিশ্চিত করে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ফার্সের প্রতিবেদনে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি সৌদি আরবেও হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইআরজিসি আবারও দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী’ আঘাত হানা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত