ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর থার্ড টার্মিনাল চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে ঠিক কবে এই টার্মিনাল চালু হবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
পর্যালোচনা বৈঠকের পর মন্ত্রীর বক্তব্য
রোববার দুপুরে থার্ড টার্মিনাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যাতে সামনে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।”
কবে নাগাদ চালু হতে পারে—এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “কবে চালু হবে, এটা তো বলা যাবে না। এখন আলাপ আলোচনা হবে, তদন্ত হবে, কীভাবে আমরা তাড়াতাড়ি করতে পারি সেটা নিয়ে কাজ চলছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় দেওয়া যাবে না।”
প্রকল্পের ইতিহাস ও ব্যয়
২০১৭ সালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর।
প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় বেবিচক জানিয়েছিল, ২০২৪ সালেই পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
কেন এখনো চালু হয়নি?
অন্তর্বর্তী সরকারও কয়েক দফা চেষ্টা করেও টার্মিনাল চালু করতে পারেনি।
মূলত ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অপারেশনের বিষয়ে’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া এবং টার্মিনাল ভবনের ভেতরে কিছু কাজের কারিগরি ত্রুটির কারণেই এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও কেন চালু করা যায়নি—এ প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন,
“কেন চালু হচ্ছে না, সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছিল, প্রশ্নটা তাদের করতে পারতেন। এখন প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যাতে সামনে চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।”
হজ ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠক
পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হজ ব্যবস্থাপনা অগ্রগতি বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন বিমানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “হজ যাত্রীরা যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া, হাজীদের সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
সভায় বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আমরা দেখবো উপযুক্ত ব্যক্তি উপযুক্ত স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন কী না।”
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় হজ ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহান এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।