ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি Ali Khamenei যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত মাধ্যম আরও জানায়, খামেনি নির্ধারিত দায়িত্ব পালনকালে নিজ দপ্তরে অবস্থান করছিলেন।
এক বিবৃতিতে Islamic Revolutionary Guard Corps (রেভুল্যুশনারি গার্ড) বলেছে,
“আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি আর আমরা তার জন্য শোক করছি। তিনি এমন একজন নেতা যিনি আত্মার পবিত্রতা, ঈমানের দৃঢ়তা, সৃজনশীল মানসিকতা, অহংকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস ও আল্লাহর পথে জিহাদের ক্ষেত্রে অনন্য ছিলেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানান, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনি ও অন্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা “যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম এড়াতে পারেননি।”
খামেনির মেয়ে, জামাতা, নাতি নিহত
রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলী খামেনির সঙ্গে তাঁর কন্যা, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যু: উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখভালে প্রেসিডেন্টসহ ৩ জন
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শাসন কাঠামো সাময়িকভাবে পরিচালনা করবেন—
-
প্রেসিডেন্ট
-
বিচার বিভাগের প্রধান
-
গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন বিচারক
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের পরিষদ এখন তাঁর উত্তরসূরি নির্ধারণ করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলমান থাকায় পরিষদের সদস্যদের একত্র করা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ৩ জুন Ruhollah Khomeiniর মৃত্যুর দিনই খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
খামেনি হত্যার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের প্রেসিডেন্টের
ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian আলী খামেনি হত্যাকে “একটি মহা অপরাধ” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“এই মহা অপরাধের জবাব দেওয়া হবে। এটা ইসলামী বিশ্ব ও শিয়া মতবাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমাদের শীর্ষ নেতার পবিত্র রক্ত এক গর্জনময় ঝরনার মতো প্রবাহিত হবে এবং আমেরিকান-জায়নবাদী নিপীড়ন ও অপরাধকে নির্মূল করবে।”
তিনি আরও বলেন,
“এবারও আমরা সর্বশক্তি ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষের সমর্থনে, এই মহা অপরাধের হোতা ও নির্দেশদাতাদের অনুতপ্ত হতে বাধ্য করব।”
খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছেন পেজেশকিয়ান।