যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পাল্টা আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে শুরু হওয়া হামলায় এ পর্যন্ত ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে রোববার সন্ধ্যায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আহতদের মধ্যেও বাংলাদেশি নাগরিক আছেন।
তবে এখনো নিহত ও আহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ এক বিবৃতিতে ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে হতাহতদের তথ্য প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান থেকে আসা মোট ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। অবশিষ্ট ৩৫টি দেশের ভেতরে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
“এসব ঘটনায় পাকিস্তানি, নেপালি ও বাংলাদেশি তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৮ জন। তারা- আমিরাত, বাংলাদেশ, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন ও আফগানিস্তানের নাগরিক।”
আরব আমিরাত প্রতিনিধি সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে বলেন, দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ১২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে শনিবার রাত কাটিয়েছেন। দুপুরের পর থেকে থেমে থেমে বিকট শব্দে ইরানি মিসাইল ও তা প্রতিহতের আওয়াজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আবুধাবি শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং দূতাবাসপাড়াগুলোতে প্রবাসীদের উদ্বিগ্ন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। আমিরাত কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
রোববার আবুধাবিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দুবাই ও উত্তর আমিরাত অঞ্চলে প্রবাসীদের মধ্যে এখনও উৎকণ্ঠা ও টানটান পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।
আমিরাতের জাতীয় জরুরি অবস্থা, সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা ও বার্তা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নাগরিকদের জানিয়ে দিচ্ছে।
ইরানের পাল্টা হামলার দ্বিতীয় দিনে রোববার আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ভূপাতিত করেছে। এছাড়া আটটি মিসাইল সমুদ্রে আছড়ে পড়ে, দুটি ক্রুজ মিসাইল নিষ্ক্রিয় করা হয় এবং ৩১১টি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়। তবে ২১টি ড্রোন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করেছে। উপর থেকে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিএনএনকে তিনি বলেন, বাসিন্দারা যে বিকট শব্দ শুনেছেন তা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিযানের ফলাফল।
এদিকে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতের নিয়োগদাতাদের পরামর্শ দিয়েছে, কর্মীদের খোলা বা উন্মুক্ত স্থানে উপস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। তবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কাজে সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন, সেগুলো এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
যেখানে সম্ভব সেখানে রিমোট ওয়ার্ক (বাসা থেকে কাজ) চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ নির্দেশনা মঙ্গলবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সহায়তার লক্ষ্যে দূতাবাস ও কনস্যুলেটের উদ্যোগে হটলাইন চালু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের করণীয় বিষয়ে সেখানে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
-
চাপের মুখে মাথা নত না করা ইরানি নেতা খামেনি, যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন
-
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক, জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার প্রেসিডেন্টের
-
ইরানের পাল্টা হামলার মুখে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
-
ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
-
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল পাকিস্তান