ঢাকা ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড ওয়ারফেজ–কে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ড ওয়ারফেজ–কে একুশে পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী
একুশে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং মিউজিক ব্যান্ড ওয়ারফেজকে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন–এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা তুলে দেন।

এবার অভিনয়ে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নৃত্যে অর্থি আহমেদ, পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় প্রফেসর ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস একুশে পদক লাভ করেন। এর পাশাপাশি মিউজিক ব্যান্ড ওয়ারফেজও এই সম্মাননা অর্জন করে।

আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা এবং ওয়ারফেজের পক্ষে দলনেতা শেখ মুনিরুল আলম টিপু প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।

সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী–এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা ও পদকপ্রাপ্তদের মানপত্র পাঠ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিসচিব মো. মফিদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্টজনেরা।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্বজগতে আলো ছড়াবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বপরিসরে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা আরও বিকশিত ও সমৃদ্ধ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। এটি কেবল একটি পদক নয়; বরং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি স্মরণ এবং শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও গবেষণায় অবদান রাখা গুণীজনদের জাতির সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৬ সালে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করা হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক অগ্রগতি।

জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা আরও শাণিত ও প্রসারিত হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে আরও বেগবান করতে রাষ্ট্র ও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।

শিক্ষা গবেষণা এবং শিল্প সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। জ্ঞান বিজ্ঞানে সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে, নৈতিক মানসম্পন্ন তেমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষে বর্তমান সরকার কাজ করছে।’

ফেব্রুয়ারি মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের স্মারক এই মাস। ফেব্রুয়ারি আমাদের সংস্কৃতির শেকড়ের সন্ধান দেয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞানী-গুণীদের কর্ম ও কর্মময় জীবনের সঙ্গে জনগণকে পরিচিত করানো রাষ্ট্রের অন্যতম কর্তব্য। সে কারণেই প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেশের গুণীজনদের একুশে পদকে সম্মানিত করা হয়েছে।