ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার কবরে মানুষের ঢল, জিয়ারত করলেন জাইমা ও পরিবারের সদস্যরা

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 112
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে জিয়ারত করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান তার চাচি সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথিকে সঙ্গে নিয়ে জিয়া উদ্যানে উপস্থিত হন।

এ সময় খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিনা ইসলাম স্বামী আমিনুল ইসলামকে নিয়ে আসেন। হুইলচেয়ারে করে উপস্থিত হন অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে শাহরিন ইসলাম তুহিন ও পুত্রবধূ। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দারও কবরে জিয়ারতে অংশ নেন।

খালেদা জিয়ার আরেক ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার এবং তার পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকেও দেখা যায়।

জাইমাসহ শোকাহত স্বজনরা খালেদা জিয়ার কবরের সামনে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় কবর প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের সদস্যরা কোরআন তেলাওয়াত করেন।

খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা কবরে জিয়ারতে আসার সময় জিয়া উদ্যানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ওই সময় নেতাকর্মীদের কবরপ্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা জিয়া উদ্যান ত্যাগ করার পর তা পুনরায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

দাফনের তৃতীয় দিনেও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসছে মানুষ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, জিয়া উদ্যানের মোড় থেকেই জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদারর কবরমুখী মানুষের ভিড়। অনেকেই ফুল নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে। উদ্যান সংলগ্ন সংসদ ভবনের সামনের রাস্তা ও বেইলি ব্রিজ থেকে কবর পর্যন্ত নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। আর কবরে পাশে নেতাকর্মীদের ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিএনপির নেতৃস্থানীয় অনেক নেতা নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে এসেছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ১১টায় মায়ের ডাকের সভাপতি ও ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা তুলি, সাড়ে ১১টায় ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান ও জিএস খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানান ’৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুসারীদের নিয়ে এসেছেন। আর কবরের পাশেই মাইকে বাজছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা একাধিক সাধারণ মানুষ জানান, বিএনপি না করলেও বেগম জিয়ার প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণেই তারা ছুটে এসেছেন।

হাসপাতালে টানা চল্লিশ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শেষ দিন শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া কর্মসূচি পালিত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে দলটি সাত দিনের শোক পালন করছে। এ উপলক্ষে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণের পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার কবরে মানুষের ঢল, জিয়ারত করলেন জাইমা ও পরিবারের সদস্যরা

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে জিয়ারত করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান তার চাচি সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথিকে সঙ্গে নিয়ে জিয়া উদ্যানে উপস্থিত হন।

এ সময় খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিনা ইসলাম স্বামী আমিনুল ইসলামকে নিয়ে আসেন। হুইলচেয়ারে করে উপস্থিত হন অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে শাহরিন ইসলাম তুহিন ও পুত্রবধূ। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দারও কবরে জিয়ারতে অংশ নেন।

খালেদা জিয়ার আরেক ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার এবং তার পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকেও দেখা যায়।

জাইমাসহ শোকাহত স্বজনরা খালেদা জিয়ার কবরের সামনে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় কবর প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের সদস্যরা কোরআন তেলাওয়াত করেন।

খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা কবরে জিয়ারতে আসার সময় জিয়া উদ্যানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ওই সময় নেতাকর্মীদের কবরপ্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা জিয়া উদ্যান ত্যাগ করার পর তা পুনরায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

দাফনের তৃতীয় দিনেও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসছে মানুষ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, জিয়া উদ্যানের মোড় থেকেই জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদারর কবরমুখী মানুষের ভিড়। অনেকেই ফুল নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে। উদ্যান সংলগ্ন সংসদ ভবনের সামনের রাস্তা ও বেইলি ব্রিজ থেকে কবর পর্যন্ত নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। আর কবরে পাশে নেতাকর্মীদের ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিএনপির নেতৃস্থানীয় অনেক নেতা নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে এসেছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ১১টায় মায়ের ডাকের সভাপতি ও ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা তুলি, সাড়ে ১১টায় ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান ও জিএস খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানান ’৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুসারীদের নিয়ে এসেছেন। আর কবরের পাশেই মাইকে বাজছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা একাধিক সাধারণ মানুষ জানান, বিএনপি না করলেও বেগম জিয়ার প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণেই তারা ছুটে এসেছেন।

হাসপাতালে টানা চল্লিশ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শেষ দিন শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া কর্মসূচি পালিত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে দলটি সাত দিনের শোক পালন করছে। এ উপলক্ষে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণের পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।