যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির (Ali Khamenei) ছেলে মোজতোবা হোসেইনি খামেনি (Mojtaba Hosseini Khamenei০ কেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতোবা খামেনিকে রোববার (৮ মার্চ) যুদ্ধকালীন পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশটির ধর্মীয় নেতারা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতোবাকে দীর্ঘদিন ধরেই তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল; যাকে মোটেই পছন্দ নয় Donald Trump–এর।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে Reuters, Al Jazeera এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian।
যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যেই নতুন নেতা নির্বাচন করেছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’।
নতুন নেতা মোজতোবাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকটের সময় যুদ্ধ-পরবর্তী নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মধ্যেই রোববার তেহরান সময় মধ্যরাতের কিছু পর ৮৮ সদস্যের Assembly of Experts বিবৃতি দিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্ধারণমূলক ভোটে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতোবা হোসাইনি খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এই পদমর্যাদা ও দায়িত্ব মোজতোবাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও White House তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মোজতোবাকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ রোববারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের মতামত নেওয়া উচিত।
তিনি ABC News–কে বলেন, “তিনি (নতুন সর্বোচ্চ নেতা) যদি আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি বেশিদিন টিকবেন না।”
নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণার আগেই Israel হুমকি দিয়েছিল—যাকেই নির্বাচিত করা হোক না কেন, তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সপ্তাহখানেক আগে শনিবার যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানে হামলা শুরুর শুরুতেই মোজতোবার বাবা, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তিনি ৩৭ বছর ধরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। সেদিনের হামলায় খামেনির স্ত্রী, মোজতোবার স্ত্রী এবং এক বোনও নিহত হন। তবে ঘটনাস্থলে মোজতোবা উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
-
সৌদি আরবে দুই দফা ড্রোন হামলা, আকাশসীমায় সতর্কতা
-
এবার তেহরানে প্রাইমারি স্কুলে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
-
ইরানকে সময়ের আগেই ‘ধ্বংস’ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, পাল্টা হুংকার
-
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দায়িত্বে মুসলিম নারী ‘ক্যাপ্টেন এল্লা’
-
ইরানে চারদিনে ৫ হাজারেরও বেশি বোমা ফেলেছে ইসরায়েল, কত মানুষের প্রাণ গেল?