লন্ডন, ৮ মার্চ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আজ লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভায় (CFAMM) অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন।
৫৬টি কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সভার (CHOGM) এজেন্ডা ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়। একইসঙ্গে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিশ্বব্যবস্থার ক্রমাবনতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত নিয়মকানুন লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থিত চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা হয়।

বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন এবং এই মর্যাদাপূর্ণ সভায় বাংলাদেশের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে অসাধারণ বিনম্রতা এবং শাসনব্যবস্থায় উজ্জ্বল ধারণা প্রবেশ করিয়ে কমনওয়েলথের সুশাসনের মূল্যবোধ সংহত করছেন।
তিনি কমনওয়েলথ সচিবালয়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান, যারা একটি শক্তিশালী কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছিল। ওই দলটি সারাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই অসাধারণ নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
বহুপাক্ষিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ অস্তিত্বগত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কংক্রিট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিকেলের অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুকে প্রায় এক দশক ধরে আশ্রয় দিয়ে আসার কারণে বাংলাদেশের উপর যে অসহনীয় বোঝা চাপছে তা তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে এখনো নতুন করে রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা ক্রমশ কমে আসার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে টেকসই আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।
সভার ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ নেন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট মাননীয় ইভেট কুপারের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারিত হয়।
অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্যে ছিল কানাডার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি রবার্ট অলিফান্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী অ্যালভিন বোটস (এমপি), অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার পররাষ্ট্র, বাণিজ্য ও বার্বুডা বিষয়ক মন্ত্রী ই. পি. চেট গ্রিন এবং ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুজেতো আব্লাকওয়ার সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সাথে একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য সমর্থন চান এবং তাদের কাছ থেকে আশ্বাস লাভ করেন।
আগামীকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে কমনওয়েলথ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং সেন্ট জেমস'স প্যালেসে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
-
অবৈধ অভিবাসী দেশে ফিরলে মিলবে ১০ হাজার পাউন্ড
-
শমসের নগর ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
-
রাজনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউকে'র ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
-
স্টেপনি শাহজালাল মসজিদ নির্মাণ কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন: জরুরি প্রয়োজন £৭০০,০০০
-
হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ : রাজনৈতিক বন্দি ও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে সরব এমপি ও লর্ডরা