টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ১৯ দিন আগে তিনি বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটি ছিল সরকারের। তবে এখন তিনি বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা।
গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছিলেন,
“আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা—এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।”
বাংলাদেশ চাইছিল, ভারত থেকে ম্যাচগুলো সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হোক। কিন্তু দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়।
ফলে ৩০ বছর পর কোনো বিশ্বকাপ হচ্ছে বাংলাদেশকে ছাড়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার প্রথমবারের মতো দর্শক হয়ে থাকছে দলটি।
বিশ্বকাপ না খেলায় আক্ষেপ আছে কি না—এমন প্রশ্নে মঙ্গলবার ক্রীড়া উপদেষ্টা ভিন্ন সুরে কথা বলেন।
“কোনো রিগ্রেট? প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের ক্রিকেট… আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
তবে সিদ্ধান্তের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে এই বক্তব্যের অসামঞ্জস্য রয়েছে। ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় ৪ জানুয়ারি। ২০ জানুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস জানান, সিদ্ধান্তের আগে বা পরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
এর ১৮ দিন পর, ২২ জানুয়ারি ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তখন তিনি বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটি সরকারের।
পাকিস্তান সফর ও ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ প্রসঙ্গ
মঙ্গলবার বিসিবি সভাপতির সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফর নিয়েও মন্তব্য করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। লাহোরে আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভায় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। ওই সভার পরদিন আইসিসি জানায়, বিশ্বকাপে না খেলার জন্য বিসিবিকে কোনো শাস্তি বা জরিমানা করা হবে না। এরপর পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দেয়।
এই ঘটনাকে বিসিবির কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।
“তার পর দেখেন, তারা যে ক্রিকেট কূটনীতিটা করেছে, আল্টিমেটলি এখন আইসিসি বলছে, আমাদেরকে কোনোরকম শাস্তি-টাস্তি তারা দেবে না, বরং একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক তারা করবে। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট, স্যালুট টু দা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এরকম সিদ্ধান্ত ১০ বার নেওয়ার সুযোগ এলে ১০ বারই এটিই নেওয়া উচিত।”
সহ-আয়োজন ইস্যুতে বিভ্রান্তি
তবে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক হওয়ার প্রসঙ্গে উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথভাবে ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় ২০২১ সালেই। আইসিসি তখনই পরবর্তী ১০ বছরের টুর্নামেন্ট সূচি ও আয়োজক দেশ ঘোষণা করে।
আইসিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আয়োজনের শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ। ভারত ও পাকিস্তানের কয়েকটি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেটি হতে পারে ২০২৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুব বিশ্বকাপ আয়োজন আর্থিকভাবে খুব লাভজনক নয়। শীর্ষ দেশগুলো এ টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে সাধারণত আগ্রহী থাকে না। ভারত ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হলেও ১৬ আসরের একবারও আয়োজক হয়নি। ইংল্যান্ডও কখনো আয়োজন করেনি। অস্ট্রেলিয়া করেছে দুবার, সর্বশেষ ২০১২ সালে।