নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে ঢাকার মহাখালীতে করাইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারী প্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্ড বিতরণের পরপরই সরকারপ্রধান ল্যাপটপে একটি বাটন চাপ দেন, সঙ্গে সঙ্গে উপকারভোগীদের কাছে নগদ অর্থ পৌঁছে যায়।
যাদের হাতে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন, তারা হলেন- পারভীন বেগম, বেগম বাসনা, বেগম পারভীন, বেগম শমলা, বেগম বকুলা বেগম, বেগম জোৎম্না, সেলিনা আখতার, বেগম রাশিদা আখতার, বেগম হোসনা আখতার, রিনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোকসানা আখতার, মারফুজা, বেগম রিনা আখতার, মোসামাৎ সুমী খাতুন, আখলিমা বেগম ও মিনারা বেগম।
এ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন রিনা বেগম ও রাশিদা আখতার।
ঢাকা ছাড়াও সারাদেশের ১৪টি উপজেলায় শুরু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। প্রাথমিকভাবে তিন লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে আগামী জুন মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১০ হাজার পরিবার এই কার্ড পাবে। এপ্রিল মাসে ১০ হাজার, মে মাসে আরও ১০ হাজার এবং জুন মাসে বাকি ১০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান; সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি ও কূটনীতিকরাও আছেন।
রাজধানীর কড়াইল বস্তি ছাড়াও সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি ওয়ার্ড-১৪ এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকাতেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
কড়াইলে অনুষ্ঠান শুরুর আগে মহিলা ও শিশু এবং কল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, “নির্বাচনের সময়ে জনগণের কাছে বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তার দল জনগণের ম্যান্ডেট পেলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে। আজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনাব তারেক রহমান তার সেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন।
“ফ্যামিলি কার্ড সার্বজনিন। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। এর আওতায় প্রতি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবে।”
স্পর্শবিহীন জিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে আধুনিক এই কার্ড। পরিবারে থাকা মা অথবা নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করবে সরকার। এই কার্ডে নাগরিকের সব ধরনের তথ্য থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে সর্বজনিন সোশাল আইডি কার্ডে রূপান্তর করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের পটিয়া এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জের দিরাইতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও বিতরণ করা হবে এই কার্ড।