শাহবাগ থানার সামনে ভাষণ বাজানোর ঘটনা
৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ‘স্লোগান ৭১’–এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শাহবাগ থানার সামনে।
অন্য দুই আসামি
অন্য দুই আসামি হলেন— মো. আসিফ আহমেদ সৈকত এবং আবদুল্লাহ আল মামুন। আসিফ আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর শহীদুল্লাহ হল শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ–এর সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক। আর মামুন ছিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ–সম্পাদক।
আদালতের আদেশ
রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) ঢাকার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–এর বিচারক জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের তথ্য
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রথমে দুজন আটক
শনিবার বিকালে চানখাঁরপুল মোড় এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর সময় দুজনকে আটক করা হয়। তাদের একজন আসিফ আহমেদ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যজন ছিলেন মাইক অপারেটর।
প্রতিবাদ কর্মসূচি
এই দুইজনকে আটকের প্রতিবাদে রিকশায় করে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন ইমি।
কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ
রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে দেয়। এতে বাধা দিলে আয়োজকদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
জাদুঘরের সামনে অবস্থান
হাতাহাতির পর ইমিসহ কয়েকজন জাতীয় জাদুঘর–এর সামনে অবস্থান করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে যান ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তি–এর নেতাকর্মীরা।
রিকশা থানায় নেওয়া হয়
পরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের রিকশাটি টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান।
মারধরের অভিযোগ
এ সময় ইমির সঙ্গে থাকা মামুনকে ছাত্রলীগ তকমা দিয়ে টেনে–হিঁচড়ে থানার ফটকে এনে মারধর করা হয়। ইমিকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ
জুলাই অভ্যুত্থানের পর মামুন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
পুলিশের কাছে হস্তান্তর
পরে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ইমি ও মামুনকে ধরে টেনে–হিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
রোববার ইমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“দুপুরে তাদের তিনজনকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়।”
আদালতে আবেদনের বিষয়
তিনজনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগ
মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা ‘মসজিদের দিকে মুখ করে লাউড স্পিকারে উস্কানিমূলক স্লোগান দেন’। এছাড়া ‘সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম ‘সচল’ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
আরও অভিযোগ
এছাড়া পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং থানা হেফাজত থেকে আসিফ আহমেদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আটক
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার সময় ডাকসু প্রতিনিধি এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী আব্দুল আল মামুন ও শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।