বুয়েটে সেহরি খেতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে কয়েক দফা পিটিয়ে শাহবাগ থানা ক্যাম্পাসে ফেলে আসার অভিযোগ উঠেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া এনসিপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তাকে ‘ছাত্রলীগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এই নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযুক্তরা ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে। ওই শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে ৭ই মার্চের ভাষণ উপলোড করেছেন বলেও তাদের অভিযোগ।
বছর কয়েক আগে আবরার ফাহাদ নামক বুয়েটের এক শিক্ষার্থী ভারতের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন বলে তাকে তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, “আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে।
“আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদেরও বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।”
পাভেল বলেন, “তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে।
“তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই।”
মারধরের পর তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
সাইফুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
পুলিশের বক্তব্য
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, “আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না জানতে চাইলে ঢাবির প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে রিকোয়েস্ট করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”