ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রেমিট্যান্স পাঠানোর দিনেই পৌঁছাবে প্রাপকের ব্যাংকে

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 120
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদেশ থেকে পাঠানো প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) গ্রাহকের হিসাবে একই দিন বা পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে জমা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধে দেরি কমানো, কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নির্দেশটি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। তবে পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তা জানাতে হবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে পাওয়া রেমিট্যান্স একই কর্মদিবসে এবং ব্যাংকিং সময় শেষে পাওয়া রেমিট্যান্স পরবর্তী কর্মদিবসে গ্রাহকের হিসাবে জমা করতে হবে।

প্রক্রিয়াটি গতিশীল করতে ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) বা ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে থাকলে কিছু কাগজপত্র বা যাচাই প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলেও গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা দেওয়া যাবে এবং পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। তবে যেখানে পোস্ট-ক্রেডিট রিভিউ সম্ভব নয়, সেখানে অর্থ জমার আগে যাচাই শেষ করে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া রেমিট্যান্স নিষ্পত্তি দ্রুততর করতে দিনের শেষে ‘নস্ট্রো’ হিসাবের বিবরণীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইন্ট্রাডে ক্রেডিট কনফারমেশন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া উন্নত করে ৬০ মিনিটের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সার্কুলারে পেমেন্ট ট্র্যাকিং এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে গ্রাহকের হিসাবে চূড়ান্ত জমা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ অনুসরণের জন্য ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (ইউইটিআর) ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা প্ল্যাটফর্ম শক্তিশালী করে ফরম ‘সি’ ও ফরম ‘সি (আইসিটি)’–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা ধাপে ধাপে বাতিল করার কথাও বলা হয়েছে।

ব্যবসায়িক মহল এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এতে গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা বৈশ্বিক সেরা অনুশীলনের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে রূপান্তরকালীন সময়ে কিছু কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে ব্যাংকাররা সতর্ক করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

রেমিট্যান্স পাঠানোর দিনেই পৌঁছাবে প্রাপকের ব্যাংকে

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশ থেকে পাঠানো প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) গ্রাহকের হিসাবে একই দিন বা পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে জমা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধে দেরি কমানো, কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নির্দেশটি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। তবে পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তা জানাতে হবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে পাওয়া রেমিট্যান্স একই কর্মদিবসে এবং ব্যাংকিং সময় শেষে পাওয়া রেমিট্যান্স পরবর্তী কর্মদিবসে গ্রাহকের হিসাবে জমা করতে হবে।

প্রক্রিয়াটি গতিশীল করতে ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) বা ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে থাকলে কিছু কাগজপত্র বা যাচাই প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলেও গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা দেওয়া যাবে এবং পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। তবে যেখানে পোস্ট-ক্রেডিট রিভিউ সম্ভব নয়, সেখানে অর্থ জমার আগে যাচাই শেষ করে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া রেমিট্যান্স নিষ্পত্তি দ্রুততর করতে দিনের শেষে ‘নস্ট্রো’ হিসাবের বিবরণীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইন্ট্রাডে ক্রেডিট কনফারমেশন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া উন্নত করে ৬০ মিনিটের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সার্কুলারে পেমেন্ট ট্র্যাকিং এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে গ্রাহকের হিসাবে চূড়ান্ত জমা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ অনুসরণের জন্য ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (ইউইটিআর) ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা প্ল্যাটফর্ম শক্তিশালী করে ফরম ‘সি’ ও ফরম ‘সি (আইসিটি)’–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা ধাপে ধাপে বাতিল করার কথাও বলা হয়েছে।

ব্যবসায়িক মহল এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এতে গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা বৈশ্বিক সেরা অনুশীলনের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে রূপান্তরকালীন সময়ে কিছু কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে ব্যাংকাররা সতর্ক করেছেন।