এলবিপিসি মিডিয়া কাপ : আমাদের আনন্দ ভাগাভাগির দিন
- আপডেট সময় : ০২:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 88
৫ অক্টোবর রবিবার পূর্ব লন্ডনের স্টেপনিগ্রীন পার্কে এলবিপিসি মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ যথারীতি ছিল প্রাণবন্ত, প্রতিযোগিতাময়। সর্বোপরি গণমাধ্যম কর্মী, সম্পাদক, প্রকাশক, লাইফ মেম্বারদের হার্দিক মিলনের অন্যতম দিন ছিল।
আমরা অনেকে খেলেছি, অনেকে ছিলাম টিম ম্যানেজমেন্ট দায়িত্বে, অনেকে ছিলাম সরব দর্শকের ভূমিকায়।
কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের কমতি ছিল না। খাবার পরিবেশন, সৌজন্যতা সবকিছুতে আমরা অনুভব করেছি— লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব একটি অনন্য মৌলিক ও সৃজনশীল পরিবার। যেখানে প্রবীণ-নবীন ও সাংগঠনিক দায়িত্বশীলরা শ্রদ্ধা ভালোবাসায় অত্যন্ত আন্তরিক।
আমরা তুমুল উদ্দীপ্ত ছিলাম, আমাদের তিনজন অগ্রজ ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে মাঠে ও বাইরে পুরো পেশাদার ফুটবলার হিসেবে পেয়েছি— জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক উদয় শংকর দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেন কামাল ও সাবেক প্রেস ক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরীকে।
অভিনন্দন ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড সেরা হওয়ার গৌরব অর্জনের জন্য। অভিনন্দন রানার্সআপ চ্যানেল এস টিম, ভালো খেলে ভাগ্যকে মেনে নিয়েছেন বিনম্র, আন্তরিকভাবে।
অশেষ ধন্যবাদ লন্ডনের বাইরের টিম বাংলা কাগজকে। বাংলা কাগজ টিম শুধু ভালো খেলেনি, ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ স্বরূপে জানিয়ে গেল— আগামী বছর এলবিপিসি মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদেরকে আলোচনার মধ্যখানে রাখতেই হবে।
সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরস্কার পেয়েছেন দুজন— বাংলা কাগজের সাইদুর রহমান সুহেল ও চ্যানেল এস-এর বাহার উদ্দিন।
ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেডের মোহাম্মদ সুবহান পেয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও একই দলের জাকির হোসেন কয়েস পেয়েছেন সেরা গোলরক্ষক পুরস্কার।
লন্ডনের বাইরে থেকে যারা খেলেছেন ও দর্শক হয়ে ৫ অক্টোবরের পুরো দিনকে আনন্দে মাতিয়ে রাখতে অগ্রণী ছিলেন তাদের প্রতিও অশেষ ধন্যবাদ, ভালোবাসা।
তবে লন্ডনের মিড-উইন্টার সময়ে শরতের শুভ্রতার মধ্যে আমাদের একটি অন্ধকার চিত্র মোটাদাগে প্রকাশ পেয়েছে। আমরা ফাইভ ডাবলিউ অ্যান্ড ওয়ান এইচ (5W & 1H) নিয়ে কমিউনিটিতে চষে বেড়ালেও আমরা যে স্বাস্থ্য সচেতন নই বা নিজের প্রতি কেয়ারলেস তা জার্সি ভেদ করে মেদসদৃশ পেট, মাঠে দৌড়ঝাঁপ ছাড়াও দর্শক ও খেলোয়াড়দের স্পোর্টিং অনুষঙ্গের মধ্যে নানাভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিপক্ষের কী কী দুর্বলতা অথবা কোন নেপথ্য কারণে ছয়বারের টুর্নামেন্টে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন ও ২ বার রানার্সআপ শিরোপা নিয়ে লন্ডনের বাঙালি মিডিয়া পাড়ায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে গেল ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড! স্পোর্টস বিষয়ক নিতান্তই অজ্ঞ আমার তেমন সমীকরণ নেই।
তবে নাম ও তথ্যসূত্র প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন, ৫ অক্টোবর রাত থেকে মুঠোফোনে তুমুলভাবে চর্চা করছেন বড় একটি পক্ষ, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেডকে বাংলাদেশের আমির হামজা কী স্বপ্নে প্রাপ্ত কোনো ফরমুলা দিয়েছেন! নাকি তাদের জন্য অক্সফোর্ডে ফুটবল লিগের সাবেক প্লেয়ার ওয়াজি তারেক মনোয়ার মাঠে দুই/তিন লাখ টাকার তাবিজ/ফু দিয়ে রেখেছিলেন।
ওয়ান বাংলার প্রতিপক্ষ বারবার টাইব্রেকার মিস করাকেও অন্যতম যুক্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে সেরা গোলরক্ষক হিসেবে জাকির হোসেন কয়েসের স্পোর্টিং মুনশিয়ানার কোনো বিকল্প তাদের টিমে নেই বলেও সূত্রদাতা মনে করছেন।
টেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে— প্রবাদটি খেলায় বারবার আমাকে প্রম্পট দিয়েছে— লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সকল বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ থাকা আহাদ চৌধুরী বাবুর খেলার মাঠের আওয়াজ শুনে। তিনি ‘লাল কার্ড আপিল’ করে প্রথম ম্যাচে সফল না হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তার গর্জন সফল হয়েছে! যদিও সেটি স্পষ্টত হ্যান্ডবল ছিল, তবে রেফারি যে আগেরবার ভয় পেয়েছেন, সেটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আলী আহমেদ বেবুল, আফজাল হোসেন, বাহার উদ্দিনসহ যারা ছোটখাটো ইনজুরি হয়েছেন তাদের আরোগ্য কামনা করছি। ক্লাব কমিটির সদস্য পলি রহমানের অনুপস্থিতির কারণ পরের দিন জেনে আমরা সমব্যথী হয়েছি। এবং হলফ করে বলতে পারি পলি আপার মমতাময়ী মা সকলের প্রার্থনায় জায়গা নিয়েছেন শুদ্ধচিত্তে।
চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ট্রফি ছাড়া আমরা যারা হেরেছি তাদের নিরানন্দ হবার মোটাদাগে কারণ নেই এই জন্য যে, বাড়ি ফেরা রাতটি কারও জন্য সুখকর ছিল না। গায়ে ব্যথা, পায়ে ব্যথায় বলতে গেলে জয়ের আনন্দের চেয়ে ব্যথা প্রশমনে সবাই ‘একই দল’-এর ছিলেন!
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে— বেশ কয়েকজন ভাবিকে রাতে চেইনশপে গিয়ে বাথ সল্ট ও পেইন কিলার কিনে আনতে হয়েছে!
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে অশেষ ধন্যবাদ একটি অনিন্দ্য দিন উপহার দেওয়ার জন্য। খোদাকে ধন্যবাদ— প্রকৃতিও ছিল স্পোর্টসের জন্য দারুণ উপভোগ্য।
আনোয়ারুল ইসলাম অভি, সদস্য, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব, কবি ,সাংবাদিক
৭ অক্টোবর, দুইহাজার পঁচিশ, লন্ডন






















