ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

তারেক রহমানের জন্য বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, দর্শনার্থী প্রবেশে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 161
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হচ্ছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, কোনও ধরনের ঝুঁকি এড়াতে পুরো বিমানবন্দর এলাকা জুড়ে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।

ইতোমধ্যে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকে বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী ছাড়া অন্য কারও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বলেন, ‘নিরাপত্তার কোনও সংকট হবে না। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। পুরো এলাকাজুড়েই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এভসেক, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং ডিএমপির পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব মিলিয়ে কয়েক হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রবেশে থাকবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যেসব যাত্রী ভেতরে যাবেন, তাদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে হবে।’

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, অন্তত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার বিকাল থেকেই নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত সদস্যদের মোতায়েন শুরু হবে। বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে শুরু করে বেবিচক সদর দফতর, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এলাকা, পণ্য আমদানি-রফতানির ৯ নম্বর গেটসহ ভেতর ও বাহিরের প্রতিটি গেটকে ঘিরে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা।

সূত্র আরও জানায়, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের চলাচলেও কড়াকড়ি থাকবে। নির্ধারিত এলাকার বাইরে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কাস্টমস এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিদের বৈধ কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল কমান্ডার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইটে দায়িত্ব পালন করে। এ কারণে আমাদের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (সিআরটি) ও ডগ স্কোয়াডও দায়িত্ব পালন করবে। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।’

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নিরাপদ বিমান চলাচলের স্বার্থে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা ২০২০ অনুযায়ী বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও গত ১৯ ডিসেম্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণের সময় তিন জন উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতিতে কয়েকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিনা অনুমতিতে ড্রোন উড্ডয়ন করে ছবি ধারণ করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিমান চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে ড্রোন উড্ডয়ন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশেও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আগামী ২৪ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ব্যতীত সব সহযাত্রী ও ভিজিটর প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তারেক রহমানের জন্য বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, দর্শনার্থী প্রবেশে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ১২:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হচ্ছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, কোনও ধরনের ঝুঁকি এড়াতে পুরো বিমানবন্দর এলাকা জুড়ে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।

ইতোমধ্যে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকে বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী ছাড়া অন্য কারও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বলেন, ‘নিরাপত্তার কোনও সংকট হবে না। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। পুরো এলাকাজুড়েই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এভসেক, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং ডিএমপির পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব মিলিয়ে কয়েক হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রবেশে থাকবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যেসব যাত্রী ভেতরে যাবেন, তাদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে হবে।’

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, অন্তত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার বিকাল থেকেই নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত সদস্যদের মোতায়েন শুরু হবে। বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে শুরু করে বেবিচক সদর দফতর, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এলাকা, পণ্য আমদানি-রফতানির ৯ নম্বর গেটসহ ভেতর ও বাহিরের প্রতিটি গেটকে ঘিরে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা।

সূত্র আরও জানায়, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের চলাচলেও কড়াকড়ি থাকবে। নির্ধারিত এলাকার বাইরে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কাস্টমস এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিদের বৈধ কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল কমান্ডার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইটে দায়িত্ব পালন করে। এ কারণে আমাদের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (সিআরটি) ও ডগ স্কোয়াডও দায়িত্ব পালন করবে। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।’

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নিরাপদ বিমান চলাচলের স্বার্থে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা ২০২০ অনুযায়ী বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও গত ১৯ ডিসেম্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণের সময় তিন জন উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতিতে কয়েকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিনা অনুমতিতে ড্রোন উড্ডয়ন করে ছবি ধারণ করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিমান চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে ড্রোন উড্ডয়ন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশেও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আগামী ২৪ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ব্যতীত সব সহযাত্রী ও ভিজিটর প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।