জরুরি অবতরণের নির্দেশ অমান্য: বিমানের ভেতরেই যাত্রীর মৃত্যু
- আপডেট সময় : ১২:৪২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / 133
বিমানে থাকা এক যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও জরুরি অবতরণ না করার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে নির্দেশনা এলেও তা মানেননি পাইলট। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুনরায় উড্ডয়নকৃত বিমানবন্দরে ফিরে আসে বিমান। ওই সময়ের মধ্যেই মারা যান অসুস্থ যাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইটে।
ঘটনার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিলেন পাইলট আলেয়া।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।”
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট বিজি-২০১। পাকিস্তানের আকাশসীমায় থাকাকালে বিমানে থাকা এক যাত্রী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে যাত্রীর জীবন বাঁচাতে নিকটবর্তী বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে পাইলট আলেয়া পাকিস্তানের আকাশসীমা থেকে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে ফিরে আসেন। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময় চিকিৎসা না পাওয়ায় বিমানের ভেতরেই মৃত্যু হয় ওই যাত্রীর। পরে আবহাওয়ার কারণে ওই দিন লন্ডনগামী ফ্লাইটটি আর যেতে পারেনি, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন অন্যান্য যাত্রীরা।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর বিমান কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিমানের ফ্লাইট সেফটি প্রধানকে। সদস্য হিসেবে আছেন কাস্টমার সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজার এবং অ্যাকাউন্টস ও প্যাসেঞ্জার রেভিনিউ প্রসেস র্যাপিড বিভাগের একজন ম্যানেজার।
তদন্ত কমিটি যাচাই করবে—সংশ্লিষ্ট যাত্রীর মেডিক্যাল ফিটনেস ও ক্লিয়ারেন্স ছিল কি না, প্রি-ফ্লাইট মেডিক্যাল শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, ফ্লাইট ডাইভারশন বা ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক ছিল এবং ইন–ফ্লাইট ফার্স্ট এইড ও জরুরি জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা যথাসময়ে নেওয়া হয়েছিল কি না।

















