ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 22
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বলা কথা বাস্তবায়ন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে—এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

এবার জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি করা হয়েছে। মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার আরও তেল বিক্রি করা হবে। খবর সিএনএনের।

ভেনেজুয়েলার তেল কীভাবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনাও করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির তেল কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি আহ্বান জানান, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হোক। তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তেল কোম্পানিগুলো। তাদের মতে, বড় বিনিয়োগের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ভেনেজুয়েলায় ব্যবসা করার ঝুঁকি প্রসঙ্গে এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প বিনিয়োগযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বিনিয়োগ থেকে কতটা লাভ হবে, তা বোঝার আগেই একটি শক্ত আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরি করতে হবে।’

লাতিন আমেরিকার এই সংকটকবলিত দেশে ব্যবসা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ বৈঠক হলেও তেল কোম্পানিগুলো কার্যত কোনো অঙ্গীকার করেনি।

বুধবার প্রথম দফা তেল বিক্রির বিষয়ে বিস্তারিত জানান হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স। যদিও তাঁর বক্তব্য ছিল কিছুটা অস্পষ্ট। তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে অভূতপূর্ব বিনিয়োগে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তেল কোম্পানিগুলোর আলোচনা ইতিবাচক ছিল, যা পরিস্থিতি সহজ করেছে।

একই দিন রয়টার্স জানায়, কানাডাসহ অন্যান্য দেশের অপরিশোধিত তেলের তুলনায় কম দামে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

কত তেল মজুত আছে ভেনেজুয়েলায়

এনার্জি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ রয়েছে ভেনেজুয়েলার হাতে। এর পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। অর্থাৎ, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেল মজুতের দেশ ভেনেজুয়েলা। খবর বিবিসির।

একসময় ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে হুগো চাভেজ ক্ষমতায় এসে তেলক্ষেত্র জাতীয়করণ করেন এবং বহু চুক্তি নতুন করে করেন। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আমূল বদলে যায়। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান গন্তব্য চীন।

একসময় বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় প্রভাব রাখত ভেনেজুয়েলা। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় আগে সেই প্রভাব কমতে শুরু করে, সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো চাভেজের শাসনামলে। নিকোলা মাদুরোর সময়ে সংকট আরও গভীর হয়। অভ্যন্তরীণ তেলশিল্প প্রায় ভেঙে পড়েছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে দেশটির অবস্থান এখন কার্যত গুরুত্বহীন।

১৯৭০-এর দশকে দেশটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন করত। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন কমতে কমতে ২০২০ সালে তা নেমে আসে মাত্র পাঁচ লাখ ব্যারেলে।

পরবর্তীতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন সামান্য এক মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি। এর বড় অংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে রপ্তানির অংশ দাঁড়ায় বৈশ্বিক বাজারের এক শতাংশেরও কম, যেখানে দৈনিক মোট চাহিদা ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বলা কথা বাস্তবায়ন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে—এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

এবার জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি করা হয়েছে। মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার আরও তেল বিক্রি করা হবে। খবর সিএনএনের।

ভেনেজুয়েলার তেল কীভাবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনাও করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির তেল কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি আহ্বান জানান, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হোক। তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তেল কোম্পানিগুলো। তাদের মতে, বড় বিনিয়োগের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ভেনেজুয়েলায় ব্যবসা করার ঝুঁকি প্রসঙ্গে এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প বিনিয়োগযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বিনিয়োগ থেকে কতটা লাভ হবে, তা বোঝার আগেই একটি শক্ত আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরি করতে হবে।’

লাতিন আমেরিকার এই সংকটকবলিত দেশে ব্যবসা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ বৈঠক হলেও তেল কোম্পানিগুলো কার্যত কোনো অঙ্গীকার করেনি।

বুধবার প্রথম দফা তেল বিক্রির বিষয়ে বিস্তারিত জানান হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স। যদিও তাঁর বক্তব্য ছিল কিছুটা অস্পষ্ট। তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে অভূতপূর্ব বিনিয়োগে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তেল কোম্পানিগুলোর আলোচনা ইতিবাচক ছিল, যা পরিস্থিতি সহজ করেছে।

একই দিন রয়টার্স জানায়, কানাডাসহ অন্যান্য দেশের অপরিশোধিত তেলের তুলনায় কম দামে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

কত তেল মজুত আছে ভেনেজুয়েলায়

এনার্জি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ রয়েছে ভেনেজুয়েলার হাতে। এর পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। অর্থাৎ, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেল মজুতের দেশ ভেনেজুয়েলা। খবর বিবিসির।

একসময় ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে হুগো চাভেজ ক্ষমতায় এসে তেলক্ষেত্র জাতীয়করণ করেন এবং বহু চুক্তি নতুন করে করেন। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আমূল বদলে যায়। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান গন্তব্য চীন।

একসময় বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় প্রভাব রাখত ভেনেজুয়েলা। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় আগে সেই প্রভাব কমতে শুরু করে, সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো চাভেজের শাসনামলে। নিকোলা মাদুরোর সময়ে সংকট আরও গভীর হয়। অভ্যন্তরীণ তেলশিল্প প্রায় ভেঙে পড়েছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে দেশটির অবস্থান এখন কার্যত গুরুত্বহীন।

১৯৭০-এর দশকে দেশটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন করত। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন কমতে কমতে ২০২০ সালে তা নেমে আসে মাত্র পাঁচ লাখ ব্যারেলে।

পরবর্তীতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন সামান্য এক মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি। এর বড় অংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে রপ্তানির অংশ দাঁড়ায় বৈশ্বিক বাজারের এক শতাংশেরও কম, যেখানে দৈনিক মোট চাহিদা ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি।