ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে আটক

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 50

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে আটক

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে এক নারীকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর এজেন্টরা। আলিয়া রহমান নামের ওই নারী একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী। তাঁর শৈশবের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে বাংলাদেশে।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত এক অভিযানে আইস এজেন্টরা এলাকায় যান। এ অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে স্থানীয় লোকজন রাস্তায় নামেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আলিয়া রহমান তাঁর গাড়ি নিয়ে মুখোশধারী এজেন্টদের পথরোধ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী এজেন্টরা আলিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁকে জোরপূর্বক বের করে আনছেন। তখন আলিয়া নিজেকে অসুস্থ দাবি করে জানান, তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আশপাশে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরাও এ সময় চিৎকার করে আইস এজেন্টদের থামতে বলেন।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—সংক্ষেপে আইসিই—যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা। এ সংস্থার কর্মীরা আইস এজেন্ট নামে পরিচিত। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের আটক, বিচার এবং ডিপোর্টেশনের কাজও এই সংস্থাই করে থাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আইস এজেন্টদের তৎপরতা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আলিয়া রহমান কে

নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমান একজন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার প্রকৌশলী। তিনি নিজেকে ‘কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে পরিচয় দেন। এর আগে তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ফেলো ছিলেন, যেখানে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে কাজ করেছেন।

লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, আলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং সাইবার নিরাপত্তায় সনদপ্রাপ্ত পেশাজীবী।

আলিয়া রহমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। শৈশবে তিনি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাস করেন। এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একটি দেশকে গড়ে উঠতে দেখেছি। আমি পোশাকশ্রমিকদের, বিশেষ করে নারীদের রাস্তায় নেমে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে দেখেছি।’

শৈশব থেকেই আলিয়া নিজেকে ‘জেন্ডার কুইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন। পড়াশোনার উদ্দেশ্যে তিনি পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনায় তাঁর দুই কাজিন নিহত হন।

দীর্ঘদিন ধরে আলিয়া রহমান ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং এলজিবিটি অধিকার সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবারের ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আইসের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে আটক

আপডেট সময় : ০১:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে এক নারীকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর এজেন্টরা। আলিয়া রহমান নামের ওই নারী একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী। তাঁর শৈশবের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে বাংলাদেশে।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত এক অভিযানে আইস এজেন্টরা এলাকায় যান। এ অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে স্থানীয় লোকজন রাস্তায় নামেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আলিয়া রহমান তাঁর গাড়ি নিয়ে মুখোশধারী এজেন্টদের পথরোধ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী এজেন্টরা আলিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁকে জোরপূর্বক বের করে আনছেন। তখন আলিয়া নিজেকে অসুস্থ দাবি করে জানান, তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আশপাশে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরাও এ সময় চিৎকার করে আইস এজেন্টদের থামতে বলেন।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—সংক্ষেপে আইসিই—যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা। এ সংস্থার কর্মীরা আইস এজেন্ট নামে পরিচিত। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের আটক, বিচার এবং ডিপোর্টেশনের কাজও এই সংস্থাই করে থাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আইস এজেন্টদের তৎপরতা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আলিয়া রহমান কে

নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমান একজন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার প্রকৌশলী। তিনি নিজেকে ‘কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে পরিচয় দেন। এর আগে তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ফেলো ছিলেন, যেখানে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে কাজ করেছেন।

লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, আলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং সাইবার নিরাপত্তায় সনদপ্রাপ্ত পেশাজীবী।

আলিয়া রহমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। শৈশবে তিনি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাস করেন। এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একটি দেশকে গড়ে উঠতে দেখেছি। আমি পোশাকশ্রমিকদের, বিশেষ করে নারীদের রাস্তায় নেমে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে দেখেছি।’

শৈশব থেকেই আলিয়া নিজেকে ‘জেন্ডার কুইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন। পড়াশোনার উদ্দেশ্যে তিনি পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনায় তাঁর দুই কাজিন নিহত হন।

দীর্ঘদিন ধরে আলিয়া রহমান ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং এলজিবিটি অধিকার সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবারের ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আইসের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।