ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশ

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 117

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাগরিকদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত প্রদান বাধ্যতামূলক, সেই তালিকা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে সাতটি দেশের নাম যুক্ত করার এক সপ্তাহ না যেতেই নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারও আগে ছয়টি দেশ যুক্ত হয়েছিল। ফলে মোট দেশসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি।

যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্ট–এর খবরে বলা হয়েছে, বন্ডের সর্বোচ্চ অঙ্ক ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসেবে)।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর জন্য (কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া) ২১ জানুয়ারি থেকে এ বন্ডের শর্ত প্রয়োগ হবে। আফ্রিকার দেশ বেশি থাকলেও তালিকায় লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ারও কয়েকটি দেশ রয়েছে। নিয়ম কার্যকর হলে অনেকের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ইতিমধ্যে আরোপিত কঠোরতার সঙ্গে এটি সর্বশেষ সংযোজন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের সশরীর সাক্ষাৎকার দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাস, পূর্ববর্তী ভ্রমণ এবং বসবাসের বিস্তারিত তথ্যও জমা দিতে হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি—৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলারের এই ভিসা বন্ড অতিরিক্ত সময় অবস্থানকারী ব্যক্তির সংখ্যা কমাতে সাহায্য করবে। তবে বন্ড দিলেই ভিসা পাওয়া যাবে—এ নিশ্চয়তা নেই। ভিসা বাতিল হলে বা ভিসার শর্ত পুরোপুরি মানা হলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

বন্ডের শর্ত যেসব নতুন দেশের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে সেগুলো হলো—
বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টिगুয়া অ্যান্ড বার্বুডা, বেনিন, বুরুন্ডি, কেপভার্দে, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, কিরগিজিস্তান, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, টোগো, টোঙ্গা, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে।

এগুলো যুক্ত হলো আগের তালিকার দেশ ভুটান, বতসোয়ানা, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, সাও তোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে, তানজানিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও জাম্বিয়ার সঙ্গে।

ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এসব দেশের পাসপোর্টধারী কেউ যদি বি১/বি২ (ভ্রমণ ও ব্যবসা) ভিসার জন্য উপযুক্ত মনে হন, তবে তাঁকে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে সাক্ষাৎকারের সময়। এ জন্য ‘আই-৩৫২’ ফরম জমা এবং Pay.gov–এর মাধ্যমে শর্তে সম্মত হওয়াও বাধ্যতামূলক।

ভিসাধারীদের নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার করতে হবে। তা না করলে প্রবেশাধিকার বাতিল বা বহির্গমন–তথ্য নথিবদ্ধ না হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। নির্ধারিত প্রবেশপথগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS),
জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK),
ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১২:৩১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাগরিকদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত প্রদান বাধ্যতামূলক, সেই তালিকা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে সাতটি দেশের নাম যুক্ত করার এক সপ্তাহ না যেতেই নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারও আগে ছয়টি দেশ যুক্ত হয়েছিল। ফলে মোট দেশসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি।

যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্ট–এর খবরে বলা হয়েছে, বন্ডের সর্বোচ্চ অঙ্ক ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসেবে)।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর জন্য (কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া) ২১ জানুয়ারি থেকে এ বন্ডের শর্ত প্রয়োগ হবে। আফ্রিকার দেশ বেশি থাকলেও তালিকায় লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ারও কয়েকটি দেশ রয়েছে। নিয়ম কার্যকর হলে অনেকের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ইতিমধ্যে আরোপিত কঠোরতার সঙ্গে এটি সর্বশেষ সংযোজন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের সশরীর সাক্ষাৎকার দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাস, পূর্ববর্তী ভ্রমণ এবং বসবাসের বিস্তারিত তথ্যও জমা দিতে হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি—৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলারের এই ভিসা বন্ড অতিরিক্ত সময় অবস্থানকারী ব্যক্তির সংখ্যা কমাতে সাহায্য করবে। তবে বন্ড দিলেই ভিসা পাওয়া যাবে—এ নিশ্চয়তা নেই। ভিসা বাতিল হলে বা ভিসার শর্ত পুরোপুরি মানা হলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

বন্ডের শর্ত যেসব নতুন দেশের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে সেগুলো হলো—
বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টिगুয়া অ্যান্ড বার্বুডা, বেনিন, বুরুন্ডি, কেপভার্দে, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, কিরগিজিস্তান, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, টোগো, টোঙ্গা, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে।

এগুলো যুক্ত হলো আগের তালিকার দেশ ভুটান, বতসোয়ানা, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, সাও তোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে, তানজানিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও জাম্বিয়ার সঙ্গে।

ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এসব দেশের পাসপোর্টধারী কেউ যদি বি১/বি২ (ভ্রমণ ও ব্যবসা) ভিসার জন্য উপযুক্ত মনে হন, তবে তাঁকে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে সাক্ষাৎকারের সময়। এ জন্য ‘আই-৩৫২’ ফরম জমা এবং Pay.gov–এর মাধ্যমে শর্তে সম্মত হওয়াও বাধ্যতামূলক।

ভিসাধারীদের নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার করতে হবে। তা না করলে প্রবেশাধিকার বাতিল বা বহির্গমন–তথ্য নথিবদ্ধ না হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। নির্ধারিত প্রবেশপথগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS),
জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK),
ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)।