ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 104

খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে খালেদা জিয়া বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, কারাভোগ করেছেন—সেই অসংখ্য মানুষের অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই বিদায় নেওয়া হলো বিএনপি চেয়ারপারসনের।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ৩টা ২ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিপুল জনসমাগমের মধ্যে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের প্রাঙ্গণ ও পুরো মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ঢল। জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্য ছিল আলাদা ব্যবস্থা।

জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আবদুল মালেক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ডান পাশে দাঁড়ান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, এরপর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আর সরকারপ্রধানের বাম পাশে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান এবং তার পরেই অবস্থান নেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান, ফাওজুল কবির খান, আ ফ ম খালিদ হোসেন, আলী ইমাম মজুমদার, সি আর আবরার ও এম সাখাওয়াত হোসেন জানাজায় অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকেও সেখানে দেখা যায়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জানাজায় শরিক হন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার ও শামীম সাঈদী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক। এছাড়া লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকেও জানাজায় দেখা যায়। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আহমাদুল্লাহও বিএনপি নেত্রীর জানাজায় অংশ নেন।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাবিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুঙ্গেল, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির উচ্চ শিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ।

চীন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরাও নিজ নিজ দেশের পক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া।

তার মৃত্যুতে দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং বুধবার সাধারণ ছুটি পালন করা হয়।

বুধবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার কফিন নেওয়া হয় গুলশানে তার ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে।

পরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো লাশবাহী গাড়ি বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছায়।

গাড়িবহরের একটি বাসে করে সেখানে উপস্থিত হন তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এই মানিক মিয়া অ্যাভেনিউতেই ১৯৮১ সালের ২ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসনের জানাজা শেষে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করার কথা রয়েছে।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া টানা ৪১ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দুইবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

যে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে খালেদা জিয়া বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, কারাভোগ করেছেন—সেই অসংখ্য মানুষের অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই বিদায় নেওয়া হলো বিএনপি চেয়ারপারসনের।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ৩টা ২ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিপুল জনসমাগমের মধ্যে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের প্রাঙ্গণ ও পুরো মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ঢল। জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্য ছিল আলাদা ব্যবস্থা।

জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আবদুল মালেক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ডান পাশে দাঁড়ান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, এরপর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আর সরকারপ্রধানের বাম পাশে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান এবং তার পরেই অবস্থান নেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান, ফাওজুল কবির খান, আ ফ ম খালিদ হোসেন, আলী ইমাম মজুমদার, সি আর আবরার ও এম সাখাওয়াত হোসেন জানাজায় অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকেও সেখানে দেখা যায়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জানাজায় শরিক হন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার ও শামীম সাঈদী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক। এছাড়া লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকেও জানাজায় দেখা যায়। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আহমাদুল্লাহও বিএনপি নেত্রীর জানাজায় অংশ নেন।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাবিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুঙ্গেল, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির উচ্চ শিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ।

চীন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরাও নিজ নিজ দেশের পক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া।

তার মৃত্যুতে দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং বুধবার সাধারণ ছুটি পালন করা হয়।

বুধবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার কফিন নেওয়া হয় গুলশানে তার ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে।

পরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো লাশবাহী গাড়ি বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছায়।

গাড়িবহরের একটি বাসে করে সেখানে উপস্থিত হন তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এই মানিক মিয়া অ্যাভেনিউতেই ১৯৮১ সালের ২ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসনের জানাজা শেষে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করার কথা রয়েছে।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া টানা ৪১ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দুইবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।