ঢাকা ১ চৈত্র ১৪৩২, রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ১ চৈত্র ১৪৩২, রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
মার্কিনীদের মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশ ছাড়ার আহ্বান, হরমুজ রক্ষায় ট্রাম্পের উদ্যোগে ফ্রান্সের না মব করে পুলিশে দেওয়া পঙ্গু আ.লীগ নেতা মারা গেলেন কারা হেফাজতে ইরানের জ্বালানিসমৃদ্ধ খার্ক দ্বীপে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, চরম প্রতিশোধের শঙ্কা এবার স্থল যুদ্ধে আসছে ২,৫০০ মার্কিন সেনা, ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ : মোজতবাকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে আকাশযুদ্ধে ইরানি শাসকদের পতন নাও হতে পারে নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, ইরানী নেতাকে হত্যার হুমকি প্রথম ভাষণে মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি : হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি সরাতে হবে ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলবেন মোস্তাফিজ, ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কিনল বার্মিংহাম হরমুজ প্রণালিতে আরও ৬ জাহাজে হামলা সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, কীভাবে সম্পন্ন হলো নির্বাচন প্রক্রিয়া? মোজতবা খামেনি এখন কোথায়? ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও আক্রান্ত যুদ্ধের আকাশে নতুন মারণাস্ত্র : লেবাননে সাদা ফসফরাস, ইরানে কালো বৃষ্টি ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে? ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, কত মানুষ এ সুবিধা পাবেন? কমনওয়েলথ সভায় বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু তুললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদিতে প্রাণ গেল আরও এক বাংলাদেশির বুয়েটে আবার নির্যাতনের ঘটনা : সেহরি খেতে যাওয়া ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে থানায় হস্তান্তর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন খামেনিপুত্র মোজতোবা খামেনি, ট্রাম্প কী করবেন? লন্ডনে 'লতা দিয়া ফতা': সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ব্যতিক্রমী সেহরি আয়োজন ইতিহাস গড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলো ভারত সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি নিহত অবশেষে ভারত থেকেই গ্রেপ্তার হাদি হত্যার প্রধান আসামী মুশফিকুল ফজলসহ ইউনূস-সরকারের নিয়োগকৃত ৪ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ইমিসহ তিনজন কারাগারে মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন সৌদি আরবে দুই দফা ড্রোন হামলা, আকাশসীমায় সতর্কতা লন্ডনে হাই কমিশনারকে ‘প্রত্যাহার’ এর খরব দিলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে আটক ঢাবির সাবেক ছাত্র, সাউন্ড বক্স জব্দ ৭ই মার্চে ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে আটক ৪ জন

জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘অবিশ্বাস ও কর্তৃত্বের’ অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘অবিশ্বাস ও কর্তৃত্বের’ অভিযোগ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় ইসলামপন্থি জোট ভেঙে গেছে। জোট থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ভাঙনকে জোটটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। প্রতিবেদনটি করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের রাশিদুল হাসান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মূলত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মোকাবিলায় ইসলামপন্থি দলগুলোর এই জোট গঠিত হয়। দীর্ঘদিন বিএনপির মিত্র থাকা জামায়াতে ইসলামী ছিল এই জোটের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা। জামায়াতে ইসলামীর যুক্তি ছিল—ইসলামপন্থি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে বিএনপির জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে একটি শক্তিশালী ইসলামী আদর্শিক বিকল্প গড়ে তোলা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়া জোটের জন্য বড় ধাক্কা। এই জোটের মূল লক্ষ্যই ছিল বিএনপিকে মোকাবিলা করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন এই জোট ভালো ফল করতে পারবে বলে মনে হয় না। বিভক্তির কারণে ভোট ভাগ হবে, যার সুফল শেষ পর্যন্ত বিএনপিই পাবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমদ জানান, 'এক বাক্স এক প্রার্থী' কৌশলের মূল প্রবক্তা তাদের দল। অর্থাৎ সব ইসলামপন্থি শক্তিকে এক ছাতার নিচে এনে প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনাটি তাদেরই ছিল। তিনি জানান, শুরুতে পাঁচটি ইসলামপন্থি দল নিয়ে জোট গঠিত হয়। পরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপিতে যোগ দিয়ে জোট ছাড়ে। এর পর জামায়াতসহ আরও ছয়টি দল যুক্ত হয়ে জোটটি ১১ দলে পরিণত হয়। তবে ইউনুস আহমদের অভিযোগ, জামায়াত আমাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে। তারা 'বড় ভাই'সুলভ আচরণ করেছে এবং আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের এক উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে তাদের জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু 'জোটের স্বার্থে' তারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, এই ভাঙনের পেছনে মূল কারণ ছিল বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাস, যার দায় তিনি জামায়াতের ওপর চাপান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত একতরফাভাবে তিনটি নতুন দলকে জোটে যুক্ত করে এবং আলোচনা ছাড়াই আসন বণ্টন শুরু করে। তিনি বলেন, তারা এমনভাবে আসন ভাগ করছিল, যেন ৩০০ আসনের মালিক তারাই। এই আচরণ ছিল অপমানজনক ও কর্তৃত্ববাদী। আমরা জোটে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু আর কোনো সহায়ক পরিবেশ ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাজনীতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ধর্মভিত্তিক অন্যান্য দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হয়। ১৯৮৬ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর দলটি আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম সর্বোচ্চ সাফল্য পায়। দলটি ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৮টি আসনে জয়লাভ করে। ২০০১ সালে পায় ১৭টি আসন। দলটি ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে এবং ২০১৮ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। ২০১৩ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হলেও ২০২৫ সালের জুনে প্রতীকসহ নিবন্ধন পুনর্বহাল হয়। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিকড় ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করিম। ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর পর দলটির নেতৃত্বে আসেন তার ছেলে সৈয়দ রেজাউল করিম। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন শর্ত পূরণ করতে দলটি বর্তমান নাম গ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আইএবি ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে ১১ হাজার ১৫৯ ভোট পায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা ১২ লক্ষাধিক ভোট পায়, যা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ। যদিও ওই নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে ব্যাপক ব্যালট বাক্স ভরার অভিযোগ ছিল। দলটি ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনও বর্জন করে।