ঢাকা ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
ঢাকা ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানে শিক্ষকের ভিডিও ঘিরে যা ঘটেছে গ্রিসের ক্রিটে অভিবাসী ঢল, ৭ দিনে ৪১৯ জন আটক ও উদ্ধার দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে আগুন, ৬ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে টোকেন সেবা চালু হজ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালককে গুলি, আতঙ্কে প্রবাসী কমিউনিটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে এসেক্সে মা-মেয়ের মৃত্যু যুক্তরাজ্যে সুপারমার্কেট থেকে গ্রাহামের সেমি-স্কিমড দুধ প্রত্যাহার, পেনিসিলিন দূষণের আশঙ্কা ইংল্যান্ডে বাতাস ও পরিবেশ দূষণ: দরিদ্র এলাকার শিশুরা ৪০% বেশি হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকিতে ম্যান ইউতে ফিরে জার্সি সংকটে রাশফোর্ড মার্কিন-সৌদি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কেন তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ? রোমে মডার্ন স্কুলে ওপেন ডে, শুরু নতুন ভর্তি প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংশোধনের সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ল ২০ জেলায় নারী ডিসি, ১৯১ উপজেলায় ইউএনও নারী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কি পদত্যাগ করছেন : উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা যুক্তরাজ্যে অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ বিলে ভ্যাট কমাচ্ছে বার্নহাম সরকার যুক্তরাজ্যে বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির হার কমল, উদ্বেগে অর্থনীতিবিদরা মালয়েশিয়ায় ভবন থেকে পড়ে বাংলাদেশির মৃত্যু মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১০৮ অভিবাসী আটক পাসপোর্ট র‍্যাংকিংয়ে উগান্ডার চেয়েও ২৫ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে নৈতিক স্খলন: গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করল জামায়াত, এমপি পদও ঝুঁকিতে রোমে প্রকাশ্যে মারধরের শিকার প্রবাসী কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি, নিশ্চিত করল ফিফা জানালা ভেঙে অর্ধেক শরীর বাইরে, বাঁচলেন রায়ানএয়ার যাত্রী PIP-সহ ডিজেবিলিটি বেনিফিটে কী কী পরিবর্তন আসছে, জেনে নিন বিস্তারিত স্মল হিথ পার্কে ফিরছে গ্রামীণ খেলার উৎসব, নবম সোনালী ক্রীড়া মেলা ২৬ জুলাই টেমস ওয়াটারকে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানায় ফেরানোর দাবি আপসানা বেগম এমপির গাড়িতে সিট বেল্ট নেই বা কানে ফোন? রাজধানীতে মামলা দেবে এআই ক্যামেরা! ১০০০ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি: আমিরাতে কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জনতা ব্যাংক?

১৪ মাসে চার্জশিট হয়নি একটি মামলারও, নীরবে কাঁদছে মানবাধিকার

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০২:২৮ পিএম

১৪ মাসে চার্জশিট হয়নি একটি মামলারও, নীরবে কাঁদছে মানবাধিকার

রাজধানীর পল্লবী থানার বাইতুন নুর এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন। গত বছরের ২৮ নভেম্বর কবির নামের এক ব্যক্তি তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কবির তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে চলে যান। ওই দিনই হেলাল খিলগাঁও থানায় কবিরের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে কবির হেলালকে আসামি করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ ওই মামলায় হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এখনো তিনি কারাগারেই আছেন।

শুধু হেলাল উদ্দিন নন, নিরপরাধ বহু সাধারণ মানুষকেই জুলাই আন্দোলন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা মহানগরীর আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনের মামলায় চার্জশিট দাখিলের বিলম্বকে অনেকে মামলা-বাণিজ্যের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক শত্রুতা থেকেও অনেককে এসব মামলায় আসামি করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি, এসব মামলায় নির্বিচারে আসামির তালিকা করা হয়েছে। যারা নিরপরাধ, চার্জশিট হলে অন্তত মুক্তির সুযোগ থাকত। কিন্তু দেরি হওয়ায় কেউ কেউ অপরাধী না হয়েও জেলে আছেন—এটা এক ধরনের শাস্তি। আবার যাদের নাম এজাহারে আছে, তারাও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এতে তারা পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’’

১৪ মাসে ৭২৯ মামলা, চার্জশিট হয়নি একটিরও

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম মামলা হয় ১১ আগস্ট। এর পর থেকে গত ১৪ মাসে রাজধানীর ৫০ থানায় মোট ৭২৯টি মামলা হয়েছে। তবে একটিরও চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে দাখিল হয়নি।

গত বছরের ২২ অক্টোবর গুলশান থানার একটি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির কারণে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। ফলে সেই চার্জশিট কার্যকারিতা হারায়।

অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন

গত ৯ সেপ্টেম্বর সাধারণ মানুষের হয়রানি রোধে সরকার অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের নির্দেশনা জারি করে। সূত্র জানায়, এরপর আদালতে ৭২টি মামলার অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা হয়, যেখানে ৩৭৩ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ—এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে। তবে অনেক আইনজীবীর মতে, এটি সমস্যার সমাধান নয়।

চার্জশিট দিতে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘‘জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলোর মধ্যে প্রায় ১৫টির চার্জশিট প্রস্তুত হয়েছে। খুব শিগগিরই আপনারা সেগুলো দেখতে পারবেন।’’ তদন্তে বিলম্ব বা গাফিলতি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘‘যথাযথ ও মানসম্মত কাজ করতে সময় লাগাটাই স্বাভাবিক।’’

অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্ত রাখা। জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলোয় অনেক সাধারণ মানুষকেও আসামি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ছিল। তাই সরকার চায়, তদন্তে যেন নিরপরাধরা কষ্ট না পায়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অব্যাহতির বিষয়টি নজরে রাখবেন, এতে হয়রানি কমবে।’’

রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘‘গুলশান থানার একটি মামলায় সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে চার্জশিট আদালতে জমা হয়েছিল। তবে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপত্তি জানালে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এর বাইরে আর কোনও চার্জশিট পাইনি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা চাই জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলোতে সঠিক তদন্ত হোক। প্রকৃত আসামি চিহ্নিত হোক, নিরপরাধরা মুক্তি পাক। নতুন বাংলাদেশে যেন কারও ওপর অন্যায় না হয়—আমরা সেটাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’’

‘‘মানুষকে আরও বেশি ভোগান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে’’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন বিষয়টি শুনতে ভালো লাগলেও এর মধ্যে অনেক ফাঁকফোকর আছে। এতে পুলিশের জন্য বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়। তারা চাইলে যেকাউকে তদন্ত থেকে বাদ দিতে পারে, আবার নাও দিতে পারে। অব্যাহতি না পাওয়া আসামিদের জামিনও কঠিন হয়ে যায়। এতে চূড়ান্ত চার্জশিটে বিলম্বের সুযোগ বেড়ে যায়। পুলিশ তখন অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বেশি মনোযোগ দেয়, ফলে তাদের লাভবান হওয়ার সুযোগও বাড়ে।’’

তার মতে, অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের পরিবর্তে পুলিশকে চার্জশিটের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত ছিল। ‘‘এই সময়সীমা ১৮০ দিন নির্ধারণ করা যেত। প্রয়োজনে আরও ৬০ দিন বাড়ানো যেত। এরপরও চার্জশিট না দিলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা উচিত ছিল,’’ বলেন তিনি।

খাদেমুল ইসলাম আরও বলেন, ‘‘অনেক মামলায় ১০-১২ বছরেও চার্জশিট হয় না, এতে আসামিদের বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন অর্থশালীদের কিছুটা রেহাই দিলেও সাধারণ মানুষকে আরও বেশি দুর্ভোগে ফেলছে।’’