ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায়, তবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে ‘পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ভেঙে পড়ার মুখে।
সোমবার (৪ মে) পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়েছে। ওইদিন ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে, আর ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের সাতটি ছোট নৌযান গুলি করে ডুবিয়ে দিয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির বিষয়টি তুলে ধরে আবারও ইরানকে হুমকি দেন।
তিনি বলেন, “আগে যা ছিল তার তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি আর অনেক উন্নত মানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ আছে। আমাদের কাছে সেরা সরঞ্জাম আছে। সারা বিশ্বজুড়ে আমাদের সামগ্রী রয়েছে।
“বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাঁটি আছে। সবগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ করা আছে। আমরা ওই সব সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবো আর যদি দরকার হয় করবো।”
সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার করানো এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সম্ভাব্য ইরানি অবরোধ ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তারা দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে সহায়তা করেছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ৮৭টি দেশের জাহাজ আটকা পড়ে আছে এবং তারা এই সংঘাতের ‘নিরপরাধ দর্শক’।
এক বিবৃতিতে কুপার বলেন, “ওই সংকীর্ণ বাণিজ্য করিডরের মধ্য দিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হতে সাহায্য করার প্রেসিডেন্টের সংকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু করতে উৎসাহিত করার জন্য গত ১২ ঘণ্টায় বহু জাহাজ ও জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।”
তবে মার্কিন নিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে জাহাজগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার উদ্ধৃতিতে এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, “বেশ কয়েকটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবি মিথ্যা।”
সোমবার দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে তাদের একটি জাহাজে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়, এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পৃথকভাবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একই এলাকায় আরও দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা এখনো রয়েছে—এমন বার্তা দিতে পারে ইরান।
-
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল হঠিয়ে আসছে বিজেপি? প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে
-
লিমনের পর বৃষ্টির মরদেহ যেভাবে শনাক্ত করল ফ্লোরিডা পুলিশ
-
ইরানের নতুন ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব, গ্রহণে ‘সন্দিহান’ ট্রাম্প
-
‘যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে’ ইরান যুদ্ধ শেষ—জানালেন ট্রাম্প, ইরানের জন্য স্থলপথ খুলে দিল পাকিস্তান
-
ইতালিতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, পরিবারকে ভিডিও কলে দেখালেন মরদেহ