ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ শুরু করছে সরকার—এ কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যাতায়াতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্বাচনী প্রচারের সময়ই আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—সরকার গঠন করতে পারলে এই সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ শুরু করব।’
তিনি জানান, প্রকল্পের শুরুতে জমি অধিগ্রহণসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতা ছিল। বিভিন্ন স্থানে সাইট অফিস স্থাপনের জন্য ১১টি জায়গায় জমি সংক্রান্ত সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে এবং দ্রুতই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সড়কের পাশাপাশি রেলপথ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তা বাড়ালে গাড়িও বাড়বে, ফলে যানজট কমবে না। পাশাপাশি কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আমরা রেল যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’
তিনি আরও জানান, সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে কম খরচে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে।
সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের National Health Service-এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী।
তিনি আরও জানান, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে, যা পরে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সিলেটে শিল্প-কারখানা সম্প্রসারণ এবং আইটি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সিলেট নয়, সারা দেশের একটি সাধারণ সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, বিশেষ করে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলার আহ্বান জানান।
এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি, যার মাধ্যমে সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় খুঁজে বের করা হবে।
সরকারের অল্প সময়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকারের বয়স এখনো আড়াই মাসের মতো। তবে এরই মধ্যে আমরা জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালু করেছি।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যে সবাইকে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
-
সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প ,শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
-
বিএনপি সরকার কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে পারবে?
-
সংসদে জামায়াত-রাজাকার ইস্যুতে মুখ খুললেন বিএনপির মন্ত্রীরা
-
৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ইমির জামিন, আইভীও জামিন পেলেন দুই হত্যা মামলায়
-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-‘আমরা নারী’ সমঝোতা : শিক্ষা-গবেষণায় কাজ করবে
আরও পড়ুন: