বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ট্র্যাভেল পাস, আউটডোর সুইমিং পুল, প্রেগন্যান্সি পেমেন্ট ও ১২,০০০ ঘরসহ ১৪৮টি প্রতিশ্রুতি
রেন্ট হার্ডশিপ ফান্ড আরও বৃদ্ধি ও বেশি পার্কিং সুবিধা প্রদানসহ থাকছে নানা কিছু
অব্যাহত থাকবে ফ্রি স্কুল মিল, ফ্রি হোম কেয়ার, ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট ও ইএমএ, ২০টি ইয়ুথ সেন্টার, নারী কেন্দ্র, ফ্রি সুইমিং ও কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স ফ্রিজসহ সকল জনপ্রিয় পলিসি
বুধবার, ২৯ এপ্রিল

টাওয়ার হ্যামলেটসের বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান এবং তাঁর দল এসপায়ার পার্টি ৭ মে ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনের জন্য তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। রয়েছে ১৪৮টি প্রতিশ্রুতি। এতে জীবনযাত্রার ব্যয়সংকটে বারার বাসিন্দাদের সহায়তায় বেশ কিছু নতুন যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ইউগভের পূর্বাভাস (এমআরপি ফরকাস্ট) অনুযায়ী, লুৎফুর রহমানের এসপায়ার পার্টি টাওয়ার হ্যামলেটসে এগিয়ে রয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে তারা কনজারভেটিভ, লেবার পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির বাইরে প্রথম দল হিসেবে লন্ডনের একটি বারা জয় করেছিল। গত মেয়াদে লুৎফুর রহমান প্রায় ১১০টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন।
এসপায়ার পার্টির ইশতেহার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বড় প্রতিশ্রুতি। দেশের প্রথম কাউন্সিল হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটসের নিম্ন-আয়ের পরিবারের প্রথম বর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য লন্ডন টিউব, ওভারগ্রাউন্ড ও বাসে সম্পূর্ণ ফ্রি ভ্রমণ অর্থাৎ ফ্রি ট্র্যাভেল পাসের ব্যবস্থা করা। বুধবার স্থানীয় একটি হলে এসপায়ার পার্টির সকল কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই ঘোষণা দেন মেয়র লুৎফুর রহমান।
ইশতেহার প্রস্তাব অনুযায়ী, কাউন্সিল শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের (টিএফএল) নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য ফ্রি ট্র্যাভেল পাসে অর্থায়ন করবে। টিএফএলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সীমা ও ট্র্যাভেল পাসের মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।
২০২২ সালে এক্সিকিউটিভ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর লুৎফুর রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসে দেশের প্রথম কাউন্সিল হিসেবে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল চালু করেন।

নতুন ইশতেহারের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো
- দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার মধ্যে ১২ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার বাড়ি নির্মাণ। ইতিমধ্যে প্রথম মেয়াদে ৬ হাজারের বেশি ঘর সরবরাহ হচ্ছে।
- নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি টিউব, বাস ও ওভারগ্রাউন্ড ভ্রমণ।
- নবজাতক শিশুর খরচে সহায়তার জন্য 'টাওয়ার হ্যামলেটস প্রেগন্যান্সি পেমেন্ট' চালু।
- ডিজিটাল বিভাজন কমাতে নিম্ন আয়ের পরিবারের তরুণদের ল্যাপটপ প্রদান।
- চাইল্ডকেয়ারের খরচে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলোর জন্য চাইল্ডকেয়ার ভাউচার প্রদানের ব্যবস্থা পর্যালোচনা।
- ভিক্টোরিয়া পার্কে একটি নতুন লাইডো বা আউটডোর সুইমিং পুল এবং সেন্ট জর্জস লেজার সেন্টার ও হোয়াইটচ্যাপেল লেজার সেন্টারে নতুন সুইমিং পুল নির্মাণ।
- অধিকাংশ কাউন্সিল পরিষেবা সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে একটি স্বতন্ত্র ডমেস্টিক ভায়োলেন্স ইউনিট গঠন, ২০২৭ সালে আউটসোর্সকৃত কোম্পানির চুক্তি শেষ হলে মেরামত পরিষেবা কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি পর্যালোচনা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পরিষেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা।
- একাকীত্ব মোকাবিলায় প্রবীণদের জন্য লাঞ্চন ক্লাব ও বিনোদনমূলক ডে ট্রিপের আয়োজন। অসহায় প্রবীণদের ঘরে ভিডিও ডোর বেল সরবরাহ।
- প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (SEND) শিশু ও তরুণদের জন্য লেজার সেন্টারে সেন্সরি রুম স্থাপন, SEND-বান্ধব স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম চালু এবং ১০ লাখ পাউন্ডের তহবিলে অতিরিক্ত বিনিয়োগ।
- দীর্ঘমেয়াদে বাড়ি খালি রাখা মালিকদের ওপর জরিমানা বৃদ্ধি এবং অব্যবহৃত জমিতে নতুন আবাসন নির্মাণের সুযোগ অন্বেষণ।

কাউন্সিলের পরিষেবাগুলোতে মেয়র লুৎফুর রহমানের অভূতপূর্ব বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে বারাজুড়ে ২০টি নতুন ইয়ুথ সেন্টার খোলা, যার মধ্যে মেয়েদের জন্য নিবেদিত প্রথম ইয়ুথ সেন্টার 'সিস্টার স্পেস সেন্টার' অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া লেজার সেন্টারগুলো কাউন্সিলের সরাসরি পরিচালনায় আনা এবং ১৬+ বয়সী নারী ও ৩৫+ বয়সী পুরুষদের জন্য বিনামূল্যে সাঁতারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই কাউন্সিল সারা দেশে দ্বিতীয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে সবার জন্য ফ্রি হোম কেয়ার চালু করেছে। পাশাপাশি 'মিলস অন হুইলস' চালু করে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের জন্য গরম খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। শীতকালীন জ্বালানি ভাতা (উইন্টার ফুয়েল অ্যালাউন্স) পুনরায় চালুর ক্ষেত্রেও টাওয়ার হ্যামলেটস দেশের প্রথম কাউন্সিল। পরবর্তীতে সরকার এটি পুনর্বহাল করে।
এই সব উদ্যোগ ও পলিসি সম্পূর্ণ ব্যয়-নির্ধারিত ও সুষম বাজেটের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা অব্যাহত রাখা হবে। কাউন্সিলের আর্থিক রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে এবং লন্ডনের মধ্যে ষষ্ঠ সর্বনিম্ন কাউন্সিল ট্যাক্সের হার বজায় রাখা হয়েছে। কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি স্থগিত রাখা অব্যাহত রয়েছে এবং সর্বনিম্ন আয়ের মানুষদের কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স না দেওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বছর ফোস্টার কেয়ারারদের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বাতিলের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

লন্ডনের হাউজিং সংকট মোকাবিলায় এই বারা শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে হাজার হাজার সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার বাড়ি নির্মাণ করেছে এবং বিদ্যমান কাউন্সিলের বাড়িগুলোর মান উন্নয়নে ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে স্যাঁতসেঁতে ও ছাঁচ সমস্যা মোকাবিলাও রয়েছে। নতুন ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ নাগাদ ১২ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার বাড়ি সরবরাহ করা হবে।
অনুষ্ঠানে এসপায়ার ইশতেহার সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক চেয়ার লিন্ডা উইলকিনসন, সোমালি কমিউনিটির প্রতিনিধি আবদি মোহাম্মদ, রোমা কমিউনিটি লিডার ডানিয়েলা আব্রাহাম, কমিউনিটি নেত্রী এন্টেলা বাসা, অ্যাক্টিভিস্ট ব্রেন্ডা ডালি এবং সুইমিং চ্যাম্পিয়ন লেসলি গ্রিন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন এসপায়ার চেয়ার কে এম আবু তাহের চৌধুরী।
মেয়রের বক্তব্য
মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, "২০২২ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল টাওয়ার হ্যামলেটসকে সবার জন্য কার্যকর করা। লেবার পার্টির অধীনে বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর বাজেটনীতির পর আমরা সেই কাটছাঁট বদলে দিই এবং ফ্রন্টলাইন পরিষেবাগুলোতে ছয় বছরে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের অভূতপূর্ব বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা যুগান্তকারী নীতির মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছি। বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় অন্য যেকোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তুলনায় বেশি সহায়তা দিয়েছি, লন্ডনের হাউজিং সংকটে নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং হাজার হাজার সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার ঘর নির্মাণ করছি।"
"বর্তমান ইশতেহার আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের খরচ কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। পাশাপাশি চালু করা হচ্ছে টাওয়ার হ্যামলেটস প্রেগন্যান্সি পেমেন্ট, যা নবজাতক সন্তান লালনপালনের খরচে সহায়তা করবে।"
ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলা হয়, "আমরা আমাদের তরুণদের জীবনের সেরা সূচনা দিচ্ছি, বাসিন্দাদের জন্ম থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহায়তা করছি এবং মানুষের প্রাপ্য মর্যাদাপূর্ণ ও সাশ্রয়ী ঘর সরবরাহ করছি। কারণ নিরাপদ ঘর কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি সবার মৌলিক অধিকার।"
"গত চার বছরে আমরা যা অর্জন করেছি, তাতে আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের সবার জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত, শক্তিশালী ভবিষ্যত গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"
অব্যাহত রাখা পলিসিসমূহ
মেয়র লুৎফুর রহমানের কিছু কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এগুলোসহ প্রায় সব কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, এ কারণেই দলের একটি স্লোগান হচ্ছে — 'ভোট এসপায়ার অ্যান্ড লুৎফুর ফর ডেলিভারি অ্যান্ড কন্টিনিউটি'।
- প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল মিল — ৩৮ হাজার শিশু উপকৃত।
- ১,৫০০ পাউন্ড করে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রান্ট এবং এ লেভেলে বছরে ৬০০ পাউন্ড শিক্ষাভাতা (ইএমএ) — দুটো মিলে ৫,২০০ শিক্ষার্থী উপকৃত।
- প্রায় ৭,০০০ নতুন শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম।
- ইয়ুথ সার্ভিসে বছরে ১৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ — ২০টি ওয়ার্ডে ইয়ুথ সেন্টার, মেয়েদের জন্য পৃথক কেন্দ্র ও একটি নারী কেন্দ্র।
- ফ্রি হোম কেয়ারের জন্য বছরে ৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ। (যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বারা হিসেবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন)
- ফ্রি সুইমিংয়ে তালিকাভুক্ত ২০ হাজার। লেজার সুবিধায় ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ।
- কাউন্সিল মালিকানাধীন ঘরবাড়ির উন্নয়নে ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ড বাজেট পরিকল্পনা।
- অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ এবং অতিরিক্ত পুলিশে বিনিয়োগ।
-
লন্ডনে প্রদর্শিত হবে 'মামুন: ইন প্রেইজ অফ শ্যাডোস (ছায়াবন্দনা)'
-
গ্রেটার দেউলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
-
রমফোর্ড রাইডার্সের নতুন জার্সি উন্মোচন
-
লন্ডনে সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে'র নতুন কমিটির অভিষেক
-
বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহামের নতুন কমিটি: সভাপতি জিয়া, সম্পাদক আতিকুর