যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতা ‘সমাপ্ত’ হয়েছে। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতির প্রয়োজন নেই—এই অবস্থানকে আরও শক্ত করতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১ মে) মার্কিন কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরানের সঙ্গে আর কোনো গুলি বিনিময় হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ শুরু হওয়া যুদ্ধ সমাপ্ত হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের War Powers Resolution অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের জন্য সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ‘সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা বিষয়ে অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনে’ কংগ্রেসের অনুমতি চাইতে বা অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হয়।
দুই মাস আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিলেন। এরপর শুরু হওয়া ৬০ দিনের সময়সীমা ১ মে শেষ হয়েছে।
ইরানের জন্য স্থলপথ খুলে দিল পাকিস্তান
Pakistan ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এবং সমুদ্রবন্দরে অবরোধের মুখে থাকা Iran-এর জন্য নিজেদের স্থল বাণিজ্য পথ উন্মুক্ত করেছে। ফলে এখন পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে ইরানের পণ্য পরিবহন বা ট্রানজিট সম্ভব হবে।
এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
তবে প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত সেই প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেবে কি না। একই সঙ্গে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে আঞ্চলিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্য সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পর্কের সমীকরণ
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান তেহরানকে এই সুবিধা দেওয়ায় ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের ওপর নতুন কোনো চাপ সৃষ্টি হয় কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
আরও পড়ুন: