ঢাকা ২০ বৈশাখ ১৪৩৩, রোববার, ০৩ মে ২০২৬
ঢাকা ২০ বৈশাখ ১৪৩৩, রোববার, ০৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ
ইরানের নতুন ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব, গ্রহণে ‘সন্দিহান’ ট্রাম্প ‘যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে’ ইরান যুদ্ধ শেষ—জানালেন ট্রাম্প, ইরানের জন্য স্থলপথ খুলে দিল পাকিস্তান ইতালিতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, পরিবারকে ভিডিও কলে দেখালেন মরদেহ হামে প্রতিদিন মরছে মানুষ : ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করে টিকা কেনার পদ্ধতি পাল্টায় ইউনূস সরকার: সায়েন্সের প্রতিবেদন সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প ,শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সরকার কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে পারবে? নিউ ইয়র্কে মসজিদে মেয়ে শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশি ইমাম গ্রেপ্তার ইরানে আবার হামলা শুরু হতে পারে, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরানোর আভাস ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য বিএনপির ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন সংসদে জামায়াত-রাজাকার ইস্যুতে মুখ খুললেন বিএনপির মন্ত্রীরা ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ইমির জামিন, আইভীও জামিন পেলেন দুই হত্যা মামলায় ১১ টন ইউরেনিয়াম মজুত করল কীভাবে ইরান, কোথায় সেই মজুত? টাওয়ার হ্যামলেটসে লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির ইশতেহার ঘোষণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-‘আমরা নারী’ সমঝোতা : শিক্ষা-গবেষণায় কাজ করবে কাঁদছেন কৃষকরা, ১৬০০ খরচ করে ৬০০ টাকায় ধান বিক্রি রোমানিয়ায় অনিয়মিত বাংলাদেশিদের সুখবর ইতালিতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি কর্মীর বিএনপি–জামায়াত পাল্টাপাল্টি বক্তব্য: কেবলই রাজনীতি? ফজলুরের বক্তব্যে সংসদ উত্তপ্ত: ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’ প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা, নাপোলিতে সফল কনসুলার ক্যাম্প নতুন মুসলিমদের পাশে ইস্ট লন্ডন মসজিদ, চালু হলো নিউ মুসলিম হাব মাস্টারশেফ ইউকে-তে নজর কাড়লেন বাংলাদেশের সাবিনা যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের নতুন প্রস্তাব ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য বিয়ে : এক বাংলাদেশি-ব্রিটিশ নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ‘কুইক রেসপন্স সাপোর্ট’ টিম যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, বৃষ্টিও বেঁচে নেই হোয়াইট হাউজের নৈশভোজে গুলি, ঘটনা নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প লন্ডনে প্রদর্শিত হবে 'মামুন: ইন প্রেইজ অফ শ্যাডোস (ছায়াবন্দনা)' নারী এমপি শিক্ষা, সম্পদে কে এগিয়ে?

ট্রাম্পের বেশির ভাগ শুল্ক অবৈধ ঘোষণা: মার্কিন আদালত

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:১৬ পিএম

ট্রাম্পের বেশির ভাগ শুল্ক অবৈধ ঘোষণা: মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তার বেশিরভাগকেই অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির একটি আপিল আদালত।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রায় ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং নতুন আইনি জটিলতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

রায়ে চীন, মেক্সিকো, কানাডাসহ বিশ্বের বহু দেশের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের একটি বড় অংশকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ফেডারেল সার্কিটের বিচারকদের ৭-৪ ভোটে এ রায় গৃহীত হয়।

ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে এসব শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে আদালত বলেছে, এই পদক্ষেপ ছিল ‘আইনের পরিপন্থি ও অবৈধ’।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন যেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারে, সেই সুযোগ দিতে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রায় কার্যকর হবে না বলে জানানো হয়েছে।

এ রায়ের সমালোচনা করে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “এই রায় যদি বহাল থাকে, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “চরম পক্ষপাতদুষ্ট একটি আপিল আদালত আজ ভুলভাবে বলেছে—‘আমাদের শুল্ক সরিয়ে ফেলা উচিত’। কিন্তু তারা জানে, শেষ পর্যন্ত আমেরিকাই জয়ী হবে। এই শুল্ক যদি কখনো বাতিল হয়, তবে তা দেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে আনবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে; অথচ আমাদের শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।”

জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘অস্বাভাবিক ও অসাধারণ হুমকির’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অসমতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি; তাই তিনি বাণিজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।

কিন্তু আদালত রায়ে বলেছে, শুল্ক আরোপ প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারে পড়ে না; বরং এটি কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করা হয়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনে ‘শুল্ক’ শব্দের কোনো উল্লেখ নেই এবং প্রেসিডেন্টকে সীমাহীনভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার মতো কোনো কাঠামোও এতে নেই।

আদালত বলেছে, কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের এখতিয়ারেই থাকবে, এবং এই ক্ষমতার ওপর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।

রায়ে আরও বলা হয়, ১৯৭৭ সালে কংগ্রেস এই আইন পাস করার সময় প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

ছোট ব্যবসায়ী ও একাধিক অঙ্গরাজ্যের জোটের করা দুটি মামলার ভিত্তিতেই এ রায় দেওয়া হয়।

গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ভিত্তি শুল্ক এবং বহু দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তিনি সেদিনটিকে বর্ণনা করেছিলেন “অন্যায্য বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে মুক্তির দিন” হিসেবে। এরপরই মামলাগুলো দায়ের হয়।

এর আগে গত মে মাসে নিউ ইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। তবে আপিল প্রক্রিয়া চলায় তা কার্যকর হয়নি।

সর্বশেষ শুক্রবারের রায়ে চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মাদক আমদানি ঠেকাতেই এসব শুল্ক জরুরি ছিল।

তবে প্রেসিডেন্টের অন্য এখতিয়ারের আওতায় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর বসানো শুল্কের ক্ষেত্রে এ রায় প্রযোজ্য হবে না।

রায় ঘোষণার আগে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেন, শুল্ক বাতিল হলে ১৯২৯ সালের মতো ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা, শেয়ারবাজার ধস এবং আর্থিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

তারা একটি চিঠিতে লিখেছেন: “জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা যদি হঠাৎ করে বাতিল হয়ে যায়—তাহলে তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।”