যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-তে হোয়াইট হাউজের সাংবাদিক সমিতির নৈশভোজে নিরাপত্তা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে এক সশস্ত্র ব্যক্তি। এ সময় দ্রুত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় সিক্রেট সার্ভিস।
একজন এফবিআই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে জানান, হামলাকারী শটগান থেকে সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাটি নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরেই ঘটে, তবে ওই এজেন্ট অক্ষত থাকেন।
নৈশভোজে ট্রাম্পের সঙ্গে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। তাদের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদেরও দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গুলিবর্ষণকারীকে আটক করা হয়েছে এবং সে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনার সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই।
ঘটনার প্রায় আধ ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন,
“এক গুলিবর্ষণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিসিতে অসাধারণ একটি সন্ধ্যা ছিল। সিক্রেট সার্ভিস ও আইন প্রয়োগকারীরা চমৎকার কাজ করেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন
পরে হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, হামলাকারীর কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল এবং সিক্রেট সার্ভিসের “কিছু অত্যন্ত সাহসী সদস্য” সেগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়।
তিনি জানান, এক এজেন্ট গুলিবিদ্ধ হলেও বুলেটপ্রুফ ভেস্ট থাকার কারণে তিনি রক্ষা পান।
ইরান যুদ্ধের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগ আছে কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “তেমনটা মনে হয় না।”
তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এসেছে এবং তার ধারণা, সে একাই এই হামলা চালিয়েছে।
লক্ষ্য কি ট্রাম্পই ছিলেন?
নিজেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমার ধারণা।”
তিনি জানান, নৈশভোজের আয়োজন করা কক্ষটি অত্যন্ত নিরাপদ ছিল, যদিও পরে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে কিছু প্রশ্নও তোলেন।
ট্রাম্প জানান, এই অনুষ্ঠানটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আবার আয়োজন করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
বিবিসি-র ওয়াশিংটন প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শোনার পর অতিথিরা আতঙ্কে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। এক সাংবাদিক জানান, তারা বুকে হেঁটে টেবিলের নিচে গিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প হামলাকারীকে ‘বিকারগ্রস্ত’ এবং ‘সম্ভাব্য আততায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লোকটি নিরাপত্তা চেকপোস্ট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল।
ট্রাম্প জানান, এ ঘটনা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প-এর জন্য “অত্যন্ত ট্রমাটিক” ছিল।
তিনি বলেন, শুরুতে তিনি অনুষ্ঠান ছাড়তে চাননি, তবে নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।