ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
বাবা দিবসে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিলেন অভিনেতা তাওশিফ মাহবুব মাজারে কড়াকড়ির পরই প্রত্যাহার সিলেট ডিসি সারওয়ার আলম, প্রবাসী অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া পদত্যাগ করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী? লন্ডনে হাসনা‌ত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা, জবাব দিলেন থানায় হাজির হয়ে কাগজের বিআরপি কার্ডের মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাজ্য, ই-ভিসার নতুন সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর কেয়ার ও স্কিলড ওয়ার্কারদের সুখবর : প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার নতুন নিয়ম ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট : পোষা প্রাণী ও বাগানের যত্নে যা মাথায় রাখবেন ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট, প্রতিবেশীর খোঁজ নিন, নিরাপদ থাকুন সিলেটে মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর নির্দেশ ডিসি সারওয়ারের যুক্তরাজ্যে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, জারি অ্যাম্বার সতর্কতা সংযুক্ত আরব আমিরাতে শিয়া মুসলিম হওয়ায় চাকরিচ্যুত হচ্ছেন প্রবাসীরা, জব্দ হচ্ছে ব্যাংক হিসাব বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম কাউন্সিলের ১২০ কোটি পাউন্ড ঋণ, উন্নয়ন প্রকল্পেই ক্ষতি ১ কোটি পাউন্ড সিলেটে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ২৬১, মোট মৃত্যু ৭২ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১% বেড়েছে: কীভাবে বাড়ল, এখন কারা জমাচ্ছে? রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা হত্যা : প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীরাও ধরা পড়ছে না গোল্ডেন ভিসা পেলেও চাকরি ছাড়তে হবে না, জানাল ইউএই ইউএইতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য সৌদির নতুন ভিসা কড়াকড়ি রোনালদো কি পর্তুগালের বোঝা হয়ে উঠছেন? গণমাধ্যম ও বিনোদনে অভিবাসনপন্থী প্রচারে কোটি পাউন্ড ব্যয়, দাবি টেলিগ্রাফের ‘আজকে সংসদ নাই? সংসদে যান’- সিলেটে পৌঁছে এমপিদের বললেন প্রধানমন্ত্রী রোনালদোর যে দুই রেকর্ড ভাঙলেন মেসি নেইমার ফিরলেন অনুশীলনে: ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির হাওয়া মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা: দুই বছর পর জাবির ১২ শিক্ষককে শাস্তি দিল্লি বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ডা. জাহেদ উর রহমান ইরান-মার্কিন শান্তি চুক্তি নিয়ে অস্বস্তিতে ইসরায়েল, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপোড়েন ব্রাজিলের দুঃসংবাদ: গ্রুপ পর্বে খেলতে পারছেন না নেইমার, অনিশ্চয়তা বাড়ছে বিশ্বকাপ ঘিরেও বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন ভিসা সহায়তা, মিলবে ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দিল্লিতে প্রবেশে বাধা: কী পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ

আবার ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তবে এবার নয় পরের নির্বাচনে

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম

আবার ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তবে এবার নয় পরের নির্বাচনে

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় ঘোষণা করেছেন। ফলে চৌদ্দ বছর আগে আদালতের রায়ে বাতিল হওয়া এই ব্যবস্থা আবারও ফিরে এলো।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার সকালে রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গত ১১ই নভেম্বর শুনানি শেষ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি দীর্ঘদিন ধরে তুলছিল একাধিক রাজনৈতিক দল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিষয়টি আবার আপিল বিভাগে আসে।

এ বছরের ২৭শে অগাস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ২১শে অক্টোবর শুরু হয় শুনানি।

ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিনের নির্বাচনী অস্বচ্ছতা ও বিতর্কের সমাধান। তবে সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থার বিরোধও শুরু হয় এবং ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে আপিল বিভাগ সংশোধনীটি বাতিল করে। কিন্তু পরবর্তী দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত একাধিক নির্বাচনে নতুন বিতর্কের জন্ম নেয়।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফেরার রায় এলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এটি প্রয়োগ সম্ভব নয়। অর্থাৎ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সূচনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত একটি ধারণা হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা—এটি শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কের প্রতিফলন।

ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই এই ব্যবস্থার উদ্ভব। এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচন একটি অনানুষ্ঠানিক অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হলেও ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের অভিযোগ পরিস্থিতি বদলে দেয়।

১৯৯৬ সালে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস হয়, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেয়। এই ব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিতর্ক ও বাতিল

২০০৬ সালের পর এই ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা বাড়ে, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিরোধ ঘনীভূত হয়ে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে, যা পরে ১/১১ সরকার নামে পরিচিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের ১০ই মে সুপ্রিম কোর্ট ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় দেয়, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা অগণতান্ত্রিক এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

পরবর্তীতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়।

ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয়—যেগুলো নিয়ে দেশে-বিদেশে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় এবং প্রশাসন–আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রভাব ভোটারদের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করে।