যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামীকাল সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পত্রিকা অবজারভার। তবে দেশটির সরকারি একটি সূত্র বলেছে, প্রধানমন্ত্রী এখনও তার সরকারের দায়িত্ব পালনের দিকেই মনোযোগী রয়েছেন।
স্টারমার যদি পদত্যাগ করেন বা ক্ষমতা হারান, তাহলে এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেখবে। প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে এটি হবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সর্বোচ্চ হার। বিশ্লেষকদের মতে, জনসেবা উন্নয়ন এবং অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ধারাবাহিক সরকারের ব্যর্থতার প্রতি জনঅসন্তোষের প্রতিফলন এটি।
রবিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কিয়ার স্টারমার সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তার বিদায়ের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারেন।
কয়েক মাস ধরেই চাপের মুখে স্টারমার
গত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়, যখন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টের একটি আসনে জয়লাভ করেন। এর ফলে লেবার পার্টির নেতৃত্বে স্টারমারের অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
অবজারভার জানিয়েছে, পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা সোমবারের মধ্যে তার কাছ থেকে একটি স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান।
নেতৃত্বের লড়াইয়ে পিছু হটবেন না বলেছিলেন
গত শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো চ্যালেঞ্জ এলে তিনি তা মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে তিনি লেবার পার্টির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে দলকে যেন দুর্বল না করা হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিলেও পরবর্তীতে একাধিক কেলেঙ্কারি এবং নীতিগত ইউ-টার্নের কারণে জনপ্রিয়তা হারান স্টারমার। এতে অনেক ভোটারের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, তিনি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।
দলের ভেতরেই বাড়ছে বিরোধিতা
রয়টার্স-এর হিসাব অনুযায়ী, লেবার পার্টির ১০০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে বলেছেন যে তারা স্টারমারের পদত্যাগ অথবা বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার পক্ষে। হাউস অব কমন্সে এটি লেবার পার্টির মোট প্রতিনিধির প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অনেকেই স্টারমারের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হোক কিংবা আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব নির্বাচন—দুই ক্ষেত্রেই তার নাম সামনে রয়েছে।
উত্তর ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তিনি লেবার পার্টির ভেতরে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। শুক্রবার একটি শূন্য সংসদীয় আসনের নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী দলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জয় পান তিনি।
যদিও বার্নহ্যাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাননি, তবে বিজয়-পরবর্তী ভাষণে তিনি দেশের জন্য নতুন পথের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রীকে সরানোর গুঞ্জন
শনিবার টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হলে অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসকে বরখাস্ত করতে পারেন। তার উপদেষ্টাদের মতে, রিভস সরকারের নীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এ প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
-
কেয়ার ও স্কিলড ওয়ার্কারদের সুখবর : প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার নতুন নিয়ম
-
ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট : পোষা প্রাণী ও বাগানের যত্নে যা মাথায় রাখবেন
-
ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট, প্রতিবেশীর খোঁজ নিন, নিরাপদ থাকুন
-
যুক্তরাজ্যে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, জারি অ্যাম্বার সতর্কতা
-
বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম কাউন্সিলের ১২০ কোটি পাউন্ড ঋণ, উন্নয়ন প্রকল্পেই ক্ষতি ১ কোটি পাউন্ড