যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ হোম অফিস। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরোনো কাগজের বা প্লাস্টিকের বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট (BRP) কার্ডের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। তবে যারা এখনও তাদের ফিজিক্যাল কার্ড ডিজিটাল সিস্টেমে রূপান্তর করতে পারেননি, তাদের জন্য সাময়িক স্বস্তি দিয়ে হোম অফিস সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসের পর পুরোনো বিআরপি কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লাখ লাখ অভিবাসী এখনও এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার বাইরে থাকায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু ই-ভিসা সেবার ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ বিআরপি কার্ড ব্যবহার করা যাবে।
"শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করবেন না" — হুঁশিয়ারি UKVI-এর
UK Visas and Immigration (UKVI) বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি কোনো স্থায়ী নিয়ম নয়, বরং অভিবাসীদের সুবিধার্থে একটি বাস্তবসম্মত সময় বৃদ্ধি।
হোম অফিস-এর এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যেসব অভিবাসীর যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধ মেয়াদ রয়েছে, তাদের দ্রুত একটি UKVI অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ই-ভিসা নিশ্চিত করতে হবে। বিমানবন্দর বা যুক্তরাজ্যের সীমান্তে এখন থেকে ডিজিটাল ই-গেট বা বর্ডার ফোর্স কর্মকর্তারা সরাসরি পাসপোর্টের সাথে ই-ভিসার লিংক যাচাই করবেন। ই-ভিসা না থাকলে বা অ্যাকাউন্টের তথ্যে গরমিল থাকলে এয়ারলাইন্স 'নো-বোর্ড' বার্তা দিতে পারে, যার ফলে যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে যেতে পারেন।
ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সময় পাওয়া গেছে, তবে কাজের অধিকার যাচাই, বাসা ভাড়ার বৈধতা যাচাই কিংবা নতুন করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল 'শেয়ার কোড' বা ই-ভিসাই এখন প্রধান মাধ্যম। তাই শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে এখনই অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ঘরে বসেই যেভাবে করবেন ই-ভিসা
ই-ভিসা তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়। ধাপগুলো নিম্নরূপ:
১. UKVI অ্যাকাউন্ট তৈরি: GOV.UK ওয়েবসাইটের ই-ভিসা পেজে গিয়ে নাম, জন্মতারিখ, ইমেইল এবং পুরোনো BRP কার্ডের নম্বর বা ভিসা আবেদনের UAN নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
২. আইডি চেক অ্যাপ ব্যবহার: স্মার্টফোনে "UK Immigration: ID Check" অফিশিয়াল অ্যাপ ডাউনলোড করে BRP কার্ড বা চিপযুক্ত পাসপোর্ট স্ক্যান এবং একটি লাইভ ছবি তুলতে হবে।
৩. পাসপোর্ট লিংক নিশ্চিতকরণ: পরিচয় যাচাই হওয়ার পর UKVI অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করে বর্তমান বৈধ পাসপোর্ট যুক্ত করতে হবে। যে পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করা হবে, সেটিই অ্যাকাউন্টে লিংক থাকতে হবে।
৪. ই-ভিসা যাচাই ও শেয়ার কোড তৈরি: সব তথ্য সঠিক থাকলে ইমেইলে নিশ্চিতকরণ বার্তা আসবে। এরপর "View and Prove" সেবার মাধ্যমে ডিজিটাল স্ট্যাটাস দেখা এবং নিয়োগকর্তা বা বাড়িওয়ালার জন্য 'শেয়ার কোড' তৈরি করা যাবে।
পাসপোর্ট পরিবর্তন হলে যা করণীয়
অনেক প্রবাসী পাসপোর্ট নবায়নের পর তা ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে আপডেট করতে ভুলে যান। ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, নতুন পাসপোর্টের তথ্য UKVI অ্যাকাউন্টে আপডেট না করলে বিদেশ ভ্রমণ শেষে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় এয়ারলাইন্স বোর্ডিং পাস নাও দিতে পারে। তাই পাসপোর্ট পরিবর্তন বা নবায়নের সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকাউন্টে তথ্য হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: GOV.UK, UK Visas and Immigration (UKVI), Home Office, DavidsonMorris, Lewis Silkin LLP, UKCISA
-
লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা, জবাব দিলেন থানায় হাজির হয়ে
-
কেয়ার ও স্কিলড ওয়ার্কারদের সুখবর : প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার নতুন নিয়ম
-
ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট : পোষা প্রাণী ও বাগানের যত্নে যা মাথায় রাখবেন
-
ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট, প্রতিবেশীর খোঁজ নিন, নিরাপদ থাকুন
-
যুক্তরাজ্যে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, জারি অ্যাম্বার সতর্কতা
আরও পড়ুন: