ঢাকা ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১% বেড়েছে: কীভাবে বাড়ল, এখন কারা জমাচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১% বেড়েছে: কীভাবে বাড়ল, এখন কারা জমাচ্ছে?

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে Swiss National Bank (SNB)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৩ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নেমে আসে ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যা ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরপর পরবর্তী দুই বছরে আবার তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

বিশ্বজুড়ে ধনী ব্যক্তিদের সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার প্রধান কারণ হিসেবে দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তাকে ধরা হয়। তবে বর্তমানে বিদেশি অর্থ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে কিছুটা শিথিলতা এসেছে Switzerland-এ।

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সুইস ব্যাংকে রাখা অর্থের একটি ধারণা পাওয়া যায়। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের বাধ্যবাধকতার কারণে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়, তবে ব্যক্তিগত গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ করা হয় না।

এসএনবির ২০২৫ সালের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, ২৮ বছরের মধ্যে ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল সর্বোচ্চ। ১৯৯৬ সালের পর এ পরিমাণ আর কখনও এত বেশি হয়নি।

এই হিসেবে ২০২২৫ সালে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার ১০ কোটি সুইস ফ্রাঁ ছাড়িয়ে যায় ২০০৬ সালে। তখন এটি ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ বছর।

সেই বছর ৯ কোটি ৭২ লাখ থেকে বেড়ে আমানত দাঁড়ায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ সুইস ফ্রাঁতে।

এরপর ২০০৭ সালে এটি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২৪ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়।

২০১১ সালে তা ছিল ১৫ কোটি ২৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ১৯ লাখে।

২০১৭ সালে কমে ৪৮ কোটি ১৩ লাখ হলেও ২০১৮ সালে আবার বেড়ে ৬১ কোটি ৭৭ লাখে পৌঁছায়। ২০২১ সালে এটি সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়ায়।

পরবর্তীতে ২০২২ সালে তা কমে ৫ কোটি ৫২ লাখ এবং ২০২৩ সালে আরও কমে ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ হয়।

দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের ‘বেশিরভাগটাই অবৈধভাবে অর্জিত এবং বিদেশে পাচার’ করা হয়েছে।

বিগত সময়গুলোতে সন্দেহ করা হতো, ক্ষমতাসীন সরকারের লোকজনই দেশ থেকে টাকা পাচার করে সুইচ ব্যাংকে জমাচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় ধারণা করা হয়েছিল এরপর হয়তো টাকা পাচার বন্ধ হবে। কিন্তু এখন উল্টোটা দেখা যাচ্ছে।