ইংল্যান্ডের হাসপাতালগুলোতে রুটিন চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ তালিকা গত জুলাই মাসে নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষে প্রায় ৬.২ মিলিয়ন রোগী মোট আনুমানিক ৭.৩৩ মিলিয়ন চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন, যা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি।
দীর্ঘমেয়াদী অপেক্ষার সংখ্যাও বাড়ছে
রুটিন চিকিৎসার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করা মানুষের সংখ্যা জুলাই মাসে বেড়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে, যেখানে জুন মাসে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৭১১ জন। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দীর্ঘমেয়াদী অপেক্ষারত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৭০০ জন বেড়েছে—যা এনএইচএসের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী অপেক্ষার তালিকা কমিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্যান্সার নির্ণয়ে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে
ক্যান্সার সেবার ক্ষেত্রে চিত্রটি মিশ্র। জরুরি রেফারেন্সের পর ২৮ দিনের মধ্যে সন্দেহভাজন ক্যান্সার রোগীদের রোগ নির্ণয় সম্পন্ন হয়েছে ৭৯.৩ শতাংশ ক্ষেত্রে, যা নির্ধারিত ৮০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য কম। ক্যান্সার নির্ণয়ে দেরি হলে চিকিৎসা শুরু হতেও দেরি হয়, যা রোগীর পূর্বাভাস (prognosis)-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, ক্যান্সার শনাক্তের পর চিকিৎসার প্রথম সুনির্দিষ্ট ধাপ শুরু হওয়ার হার জুন মাসের ৬৯.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাইয়ে ৭১.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হলেও একবার নির্ণয় হয়ে গেলে চিকিৎসা শুরুর গতি কিছুটা বেড়েছে।
জরুরি বিভাগে রেকর্ড সেবা প্রদান
সামগ্রিক চাপ সত্ত্বেও এনএইচএসের জরুরি বিভাগ (A&E) ইতিবাচক একটি চিত্র তুলে ধরেছে। এনএইচএস জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালে রেকর্ড সংখ্যক রোগীর চাপ সত্ত্বেও এই সময়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক রোগীকে জরুরি বিভাগে চার ঘণ্টার মধ্যে সেবা দেওয়া হয়েছে। এটি দেখায় যে, জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনায় এনএইচএসের সক্ষমতা কিছুটা বেড়েছে, যদিও রুটিন চিকিৎসার সারিতে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
কেন এই সংকট গুরুত্বপূর্ণ
স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, রুটিন চিকিৎসার অপেক্ষমাণ তালিকা দীর্ঘ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে-জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদী রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং এনএইচএস কর্মীদের ঘাটতি অন্যতম। একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে সেবাদানকারী কর্মীদের উপস্থিতি কমে যাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রুটিন অস্ত্রোপচার, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ কিংবা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার এই প্রবণতা প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের এনএইচএস ট্রাস্টেই কমবেশি অনুভূত হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এনএইচএস ইংল্যান্ড অফিসিয়াল নিউজ রিলিজ ও পিএ মিডিয়া
-
৫ বছরের ILR নিয়ে স্বস্তির ইঙ্গিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় যুক্তরাজ্য
-
শিশুদের ফোনে অশ্লীল ছবি ঠেকাতে অ্যাপল-গুগলকে আইনে বাধ্য করছে যুক্তরাজ্য
-
লন্ডনে বিবিসিসিআই’র ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
-
বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত বিবিসির পরিচিত মুখ মরিয়ম মোশিরি
-
বেনিফিটভুক্ত অভিভাবকদের সন্তানরা আর পাবে না প্রি-স্কুলে অগ্রাধিকার