প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্রাউন প্রিন্সের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। তাঁর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চললেও সেই সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
পারিবারিক ধারাবাহিকতায় সৌদি সম্পর্ক
তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্কের ভিত্তি রচিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, আর ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সৌদি বাদশা খালিদ বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে সৌদি আরব সফরে যান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেই সফরে তিনি বাদশাকে উপহার হিসেবে দেন ওষধিগুণসম্পন্ন নিম গাছের চারা, যা পরবর্তীতে হাজার হাজার সংখ্যায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়। ১৯৮৩-৮৪ সালে সৌদি সরকার আরাফাত ময়দানে ব্যাপকভাবে এই নিমগাছ রোপণ করে, যা আজও 'জিয়া ট্রি' বা 'জিয়া সাজারাহ' নামে পরিচিত এবং হজযাত্রীদের রোদের তাপ থেকে ছায়া দিয়ে আসছে।
পরবর্তীতে তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। ২০১২ সালে তিনি সৌদি রাজ পরিবারের আমন্ত্রণে সৌদি আরব সফর করে ওমরাহ পালন করেন এবং তৎকালীন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।
বিনিয়োগ, জনশক্তি ও জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান আমন্ত্রণ ও সম্ভাব্য সফর দুই দেশের সম্পর্ককে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। সৌদি আরবে বর্তমানে লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত, যাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটি বড় স্তম্ভ। পাশাপাশি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি ও তেলখাতে সহযোগিতার বিষয়টিও দুই দেশের আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিতা-মাতার সময়ে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য সৌদি সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।
-
যুক্তরাজ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ বিক্রি নিষিদ্ধ
-
নেতানিয়াহুর ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ মন্তব্যে তুমুল সমালোচনা
-
টাওয়ার হ্যামলেটসে ৩,৪০০ নতুন বাড়ি নির্মাণে যৌথ উদ্যোগ
-
খরা ও তাপপ্রবাহে যুক্তরাজ্যজুড়ে নোংরা রাস্তা, পানি সংকট তীব্র হচ্ছে
-
লণ্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটে বসছে স্থায়ী ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা