দলের সাংগঠনিক কাজ গতিশীল করতে দীর্ঘ এক দশক পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আগামী ঈদুল আজহার পর এ কাউন্সিল হওয়ার কথা।
দলের চেয়ারপারসন ও মহাসচিব পদে পুরোনোতেই ভরসা নাকি নতুন মুখ আসবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দলের মহাসচিব অতি সম্প্রতি জনসভায় জানিয়েছেন, তার বয়স হয়েছে, তিনি আর মহাসচিব এর দায়িত্ব পালন করতে চান না, অবসর নিতে চান। এদিকে, জুলাই সনদ অনুসারে একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান ও দলপ্রধান না থাকার কথা বলা হয়েছে। এই সনদে সাক্ষর করেছে বিএনপি। এই সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলপ্রধানের পদ ছেড়েছেন। বিএনপিও কি সেই পথে যাচ্ছে-তা নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত দিনে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কর্মসূচি ছিল সংকুচিত। সব আয়োজন ছিল সাদামাটা। তাই নিজেদের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার থাকবে ভিন্নমাত্রা। উৎসবের আমেজ রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ঘোষণা হবে নতুন নেতৃত্ব। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারা অনুযায়ী ৮ বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান। তবে গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গত ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি ভারমুক্ত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। আর মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২০১৬ সালের কাউন্সিলে।
২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তার বড় ছেলে তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান খালেদা জিয়া। এরপর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের কাউন্সিলের আগে দলীয় প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়নি। এবারও তারেক রহমানের বিকল্প রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান নিজেই। এ কারণে এ বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত জানতে কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সীমাবদ্ধতায় নির্দিষ্ট সময়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়েছে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এবারে হবে সপ্তমবারের মতো। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘অতীতের চেয়ে এবারের কাউন্সিল নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। কারণ বিগত ফ্যাসিবাদের সময় আমাদের সাংগঠনিক কাজে নানা প্রতিকূলতা ছিল। তাই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হতো সাদামাটা। আশা করি এবারের কাউন্সিল হবে উৎসবমুখর। এতে দলের সর্বস্তরে আসবে নতুন নেতৃত্ব।’’ তিনি জানান, শিগগিরই কাউন্সিলের পথনকশা ঘোষণা করা হবে।
-
রামিসা ধর্ষণ-হত্যার ১৯ দিনের মাথায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির ফাঁসির রায়
-
হামে প্রতিদিন গড়ে ৭ শিশুর প্রাণহানি : রাজশাহী থেকে যেভাবে দেশজুড়ে ছড়াল
-
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম : গ্রিন কার্ড পেতে বিদেশিদের দেশে ফিরতে হবে
-
হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার
-
আ.লীগের ব্যাক করা নিয়ে মাহফুজের পোস্ট, যা লিখলেন