লন্ডনের সবচেয়ে ব্যস্ত শপিং স্ট্রিট অক্সফোর্ড স্ট্রিটে এবার লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন (এলএফআর) ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ সত্ত্বেও লন্ডন মেয়র সাদিক খান ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন পথচারী-বান্ধব করে সাজানো এই সড়কেও প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হবে।
ক্রিসমাসের আগেই ওয়েস্ট এন্ডে চালু
গত জুনে মেট পুলিশ জানিয়েছিল, চলতি বছরের ক্রিসমাসের মধ্যেই লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায় এলএফআর প্রযুক্তি চালু করা হবে এবং আগামী বছরের মধ্যে আরও ছয়টি এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে। এই তালিকায় অক্সফোর্ড স্ট্রিটও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সাদিক খান। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দেশের প্রথম কয়েকটি এলাকার একটি, যেখানে পথচারীদের মুখ স্ক্যান করে সরাসরি ওয়ান্টেড তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য স্থায়ী অবকাঠামো বসানো হবে।
এতদিন পরীক্ষামূলকভাবে অস্থায়ী পুলিশ ভ্যানে এই ক্যামেরা ব্যবহার করা হলেও, নতুন পরিকল্পনায় ল্যাম্পপোস্টের মতো রাস্তার আসবাবের সঙ্গে স্থায়ীভাবে ক্যামেরা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড পরিকল্পনা করছে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড ও সোহো এলাকায় স্থায়ী এলএফআর ক্যামেরা বসানোর, যেখানে শহরের মধ্যে অপরাধের হার তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি। এ মাস থেকেই আন্ডারগ্রাউন্ড টিউব স্টেশনগুলোতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে।
জুলাই মাসে সিটি হলের এক অধিবেশনে সাদিক খান বলেন, “অক্সফোর্ড স্ট্রিট পথচারী-বান্ধব করার সময় কীভাবে যুক্তিসঙ্গতভাবে এলএফআর ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে অক্সফোর্ড স্ট্রিট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে মেট পুলিশ, নতুন সিসিটিভি স্থাপনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ
মানবাধিকার সংগঠন লিবার্টির প্রতিনিধি রুথ এরলিখ বলেন, অক্সফোর্ড স্ট্রিটে এলএফআর ক্যামেরা বসানো হলে তা হবে “পাবলিক স্পেসে নজরদারির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ” এবং একে তিনি একটি “বাড়াবাড়ি” বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া প্রত্যেকের মুখ স্ক্যান করে, তারা কোনো অপরাধে সন্দেহভাজন কি না তা বিবেচনায় না নিয়েই। তিনি সরকারের আসন্ন আইনি কাঠামো প্রকাশের আগে মেট পুলিশকে আর কোনো নতুন এলএফআর প্রকল্প চালু না করার আহ্বান জানান।
লিবার্টির একটি জরিপ অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক কোনো হুমকির আশঙ্কা না থাকলে হাই স্ট্রিটে মানুষের মুখ স্ক্যান করার বিরোধিতা করেন প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষ।
ক্যাম্পেইন গ্রুপ বিগ ব্রাদার ওয়াচের প্রতিনিধি জসলিন চাগ্গার মেয়রকে এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি ফেস স্ক্যান একজন মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতোই অনন্য। সন্দেহভাজন না হলে পুলিশ কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতে পারে না। দূর থেকে নেওয়া হচ্ছে বলেই ফেসপ্রিন্ট নেওয়া কম আগ্রাসী কিছু নয়।”
উল্লেখ্য, এই প্রযুক্তি চালিত অ্যালগরিদমে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ফলাফল দেখা যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মেয়র দপ্তরের বক্তব্য
মেয়রের একজন মুখপাত্র বলেন, অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে “বিশ্বমানের, পথচারী-বান্ধব ও নিরাপদ গন্তব্য” হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এলএফআর প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সিটি হলের রেকর্ড ফান্ডিংয়ের সহায়তায় মেট পুলিশ ই-বাইক, ড্রোন ও লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশনের মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপজ্জনক অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও রাজধানীতে সহিংসতা প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিচ্ছে।”
তার দাবি, ওয়েস্টমিনস্টারে গত এক বছরে প্রতিবেশী এলাকার অপরাধ ১৪ হাজার কমেছে এবং ওয়েস্ট এন্ড ও সোহোতে এলএফআরের ব্যবহার অপরাধের হার আরও কমাতে সহায়ক হবে। মুখপাত্র আরও বলেন, লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি কোথায়, কখন, কেন ও কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সে বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেয়রের অফিস ফর পুলিশিং অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ তদারকি অব্যাহত রাখবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
যুক্তরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে, একক নৌকায় রেকর্ড ২৩০ জনের প্রবেশ
-
যুক্তরাজ্যে চশমা পরে গাড়ি চালানোর ডিভিএলএ নিয়ম ভাঙলে জরিমানা ১০০০ পাউন্ড
-
যুক্তরাজ্যে ৬৫ ঊর্ধ্বদের সঞ্চয়ে কর দেওয়া বেড়েছে চারগুণ
-
তাপপ্রবাহের মধ্যে লন্ডন-এসেক্সে পাইপ ফেটে ১০ হাজার বাড়িতে পানির সংকট
-
ফারাজের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ তদন্ত পুনরায় চালু, স্বাগত জানালেন ফারাজ নিজেই