১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামো কেমন হবে এবং সেখানে কারা স্থান পেতে পারেন—এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় তরুণ নেতাদের উপস্থিতি কতটা থাকবে এবং সমমনা দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব রাখা হবে কি না—এসব প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও জল্পনা চলছে। এমনকি সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত কয়েকজন বিজয়ীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়ছে।
যদিও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার আকার ও রূপরেখা জানায়নি, তবে বিবিসি বাংলার তথ্যমতে, তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা বা সরকারের আকার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের তুলনায় ‘অনেকটাই ছোট’ হতে যাচ্ছে।
এ জন্য গঠন ও আকৃতিতে পরিবর্তন এনে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩০-এর নিচে নামিয়ে আনার কথা ভাবছে দলটি। বিএনপির মতে, এতে সরকারের ‘কাজ যেমন সহজ হবে’, তেমনি ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা’ নিশ্চিত করাও সহজ হবে। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি বাংলা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা নেতারা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের মিশেল। নিজেদের বাইরে ভোটে জয় পাওয়া সমমনা দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তিন ডজন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী
এবারের নির্বাচনে জয়ী এমপিদের ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেদিন সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন—অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
একইদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন। শপথ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ–সহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকরাও উপস্থিত থাকবেন।
প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া তারেক রহমান মন্ত্রিসভার আকার ছোট রাখতেই আগ্রহী। বর্তমানে সরকারের ৪৩টি মন্ত্রণালয় কমিয়ে ৩০-এর নিচে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে বিভক্ত করা কিছু মন্ত্রণালয় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথাও ভাবা হচ্ছে। একই খাতভিত্তিক মন্ত্রণালয় একীভূত করার অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও রেল এক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার সম্ভাবনার কথাও জানা যাচ্ছে।
সিনিয়র নেতাদের ধারণা, নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় দুই ডজন পূর্ণমন্ত্রী এবং এক ডজন উপমন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারে। অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক কম বিতর্কিত নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন, আর মেধাবী কিন্তু কম অভিজ্ঞ তরুণরা উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন।
আলোচনায় থাকা নামগুলো
সিনিয়র নেতারা:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু।
নারী নেত্রীদের মধ্যে:
সেলিমা রহমান এবং শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর–২ থেকে বিজয়ী)।
তরুণ নেতারা:
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ইশরাক হোসেন।
মিত্র দল থেকে:
ববি হাজ্জাজ, শাহাদাত হোসেন সেলিম; পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে আন্দালিভ রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর—তিনজনই ডাক পেতে পারেন।
মন্ত্রিসভায় না থাকা কিছু সিনিয়র নেতা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নজরুল ইসলাম খান–কে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত কারা মন্ত্রিসভায় থাকছেন এবং কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন—তা মঙ্গলবারের শপথ অনুষ্ঠানের পরই পরিষ্কার হবে।