যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ২.৯ শতাংশে, ফলে বোনাসসহ গড় বেতন বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৪.৩ শতাংশে। চলতি বছরের মধ্যেই একটি ১০ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা রয়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রীর।
অর্থনীতিবিদরা মে মাস পর্যন্ত তিন মাসে বোনাসসহ গড় বেতন বৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যা এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের ৪.৪ শতাংশ থেকে বাড়ার কথা ছিল। একই সময়ে বেকারত্বের হার এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের ৪.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছিল।
গত দুই বছর ধরে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০২২ সালের গ্রীষ্মে বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন ৩.৬ শতাংশে নেমে আসার পর থেকে তা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গত বছর বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ ৫.২ শতাংশে পৌঁছেছিল, তারপর শরৎকালীন বাজেটের পর কিছুটা স্থিতিশীল সময়ে সামান্য কমে আসে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার আগ পর্যন্তই এই স্থিতিশীলতা টিকে ছিল।
হিসাববিজ্ঞান সংস্থা আইসিএইডাব্লিউর প্রধান অর্থনীতিবিদ সুরেন থিরু বলেন, এই পরিসংখ্যান একটি ভঙ্গুর শ্রমবাজারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে, ক্রমবর্ধমান কর্মসংস্থান কর এবং ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ সীমিত করতে ও বেতন বৃদ্ধি কমাতে বাধ্য করছে। তিনি আরও বলেন, চাকরির শূন্য পদ ক্রমাগত কমে যাওয়া প্রমাণ করে যে কর্মী নিয়োগের চাহিদা কমছে, কারণ ক্রমবর্ধমান কর্মী ব্যয়, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও অনিশ্চয়তার চাপ বাড়ছে। গ্রীষ্মজুড়ে চাকরিপ্রার্থীদের আরও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমিক ইউনিয়নগুলো প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে ব্যাপক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। টিইউসির সাধারণ সম্পাদক পল নোয়াক বলেন, বিদ্যুৎ বিলের ওপর ভ্যাট কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বার্নহাম ইতিবাচকভাবে যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, স্থবির প্রকৃত বেতন, ঝুঁকিপূর্ণ জিরো-আওয়ার চুক্তিতে আটকে থাকা ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এবং কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে নেই এমন ১০ লাখ তরুণের সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষ কঠিন সময় পার করছেন। জ্বালানি বিলে ভ্যাট কমানো কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে তিনি জানান, তবে ট্রাম্পের অবৈধ ইরান যুদ্ধ বিল বাড়িয়ে চলায় সরকারকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের মুনাফার ওপর কর বসিয়ে চার বছরে ৬০ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত সংগ্রহ করে তা দিয়ে দেশজুড়ে পরিবারগুলোর বিল আরও কমানো সম্ভব।
সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে এখনো অনেক তরুণ কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রয়ে গেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারগুলো ব্যর্থতার মূল্য দিয়েছে, মানুষের সাফল্যে বিনিয়োগ করেনি। তরুণদের জন্য প্রকৃত সুযোগ তৈরি করে, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার করে এবং কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার বদ্ধপরিকর।
ছায়া কর্ম ও পেনশন সচিব হেলেন হোয়েটলি বলেন, একের পর এক কর বৃদ্ধির মাধ্যমে লেবার সরকার শ্রমবাজারের ক্ষতি করেছে। তাঁর মতে, উচ্চ কর মানেই কম প্রবৃদ্ধি ও কম চাকরি, এবং ওয়েলফেয়ার সচিব নিজেই স্বীকার করেছেন যে লেবার এমপিদের সঙ্গে তাঁর প্রতিটি বৈঠকই ছিল আরও বেশি বেনিফিটের জন্য কাকে আরও বেশি কর দিতে হবে তা নিয়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়ানোর জন্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বেতন বৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আগামী সপ্তাহে ব্যাংকের রেট-সেটাররা বৈঠকে বসবেন এবং সুদহার ৩.৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
স্মল হিথ পার্কে ফিরছে গ্রামীণ খেলার উৎসব, নবম সোনালী ক্রীড়া মেলা ২৬ জুলাই
-
টেমস ওয়াটারকে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানায় ফেরানোর দাবি আপসানা বেগম এমপির
-
১ কোটির বেশি গ্রাহকের জন্য হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা টেমস ওয়াটারের
-
HMRC থেকে জরুরি সতর্কবার্তা: চাইল্ড বেনিফিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ৩১ আগস্টের মধ্যে জানাতে হবে সিদ্ধান্ত
-
বার্মিংহামে ছয় হাজার পাউন্ডের বৈধ ই-বাইক ধ্বংস করল পুলিশ, ভুল স্বীকারে নারাজ