ঢাকা ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ
সিলেটে পাঁচ দিনে ১১ লাশ, নেপথ্যে কী কারণ? মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না ইসমাইলের, বনানীতে মিলল মরদেহ প্যারিসে বাংলাদেশিদের ড্রাইভিং শেখাবে ‘ফ্রেঞ্চ অ্যাকাডেমি’ যুক্তরাষ্ট্রের এনওয়াইপিডির সর্বোচ্চ গোয়েন্দা পদে বিয়ানীবাজারের ইকবাল হোসেন দিলারা জামানকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড: ২২-২৩ বছর আগের ঘটনা নতুন করে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি কারাগারে ভিডিও কলে স্বজনের মুখ দেখার সুযোগ, তবে মাদক-দুর্নীতির পুরোনো অভিযোগ অমীমাংসিত লন্ডনের স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ: বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের আচরণ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ায় ৮ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার টাওয়ার হ্যামলেটসে কস্ট অব লিভিং সহায়তায় আয়সীমা ৬০ হাজার পাউন্ড, জানালেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান পূর্ব লন্ডনে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মশার প্রজনন শনাক্ত, স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা যুক্তরাজ্যে সাপ্তাহিক ফুড ওয়েস্ট সংগ্রহে ৯,০০০ পরিবারের নতুন সাড়া মন্ত্রী এলেই দৃশ্য বদলায় ওসমানী হাসপাতাল, বছরজুড়ে কেন ভোগান্তি: প্রশ্ন রোগীদের আগামী ১৮ অক্টোবর ভোটগ্রহণ: গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ভাঙা ডানা নিয়েও বেঁচে থাকা "বিস্ময়কর" ঈগলকে ফের দেখা গেল স্কটল্যান্ডের উপকূলে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় বড় স্বস্তি: শোষণকারী নিয়োগকর্তা বদলাতে পারবেন ভুক্তভোগীরা গোলাপগঞ্জের চন্দরপুরে আবু তাহের এমবিইকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা মালয়েশিয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুবিধা বাংলাদেশিদের জন্য সীমিত হলো মিসাইল-ড্রোন হামলা: কুয়েতে বাংলাদেশিদের বিশেষ সতর্কতা নেতৃত্বের কোন্দলে বিভক্ত ফোবানা, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় ৪ সম্মেলন মিশরে দুই বাংলাদেশিকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, ৩ বাংলাদেশির ৫ বছর সাজা দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন যুক্তরাষ্ট্রেও ভুল পথে গাড়ি : প্রাণ গেল বাংলাদেশি মা-মেয়ের ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার মহিম নিহত কুয়েত–ঢাকা রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু, কমেছে বিমান ভাড়া স্পেনের মাদ্রিদে গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ড, বাংলাদেশি ফুড ডেলিভারি কর্মী নিহত সৌদি আরবে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত ঢাকায় গ্রেপ্তার বিয়ানীবাজার আওয়ামী লীগ নেতা পল্লব, নেওয়া হচ্ছে সিলেট আদালতে ৬ মাসের মধ্যে ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে মারধর: নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘন: আটক ৩০ বাংলাদেশিসহ ৫২৮

লন্ডনের স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ: বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের আচরণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

লন্ডনের স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ: বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের আচরণ

স্কুলে ঢোকার পর মোবাইল ফোন পকেটে থাকা যুক্তরাজ্যের অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য। ক্লাসের ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা, বন্ধুদের ছবি বা ভিডিও করা, মেসেজের উত্তর দেওয়া কিংবা লাঞ্চের সময় ফোনে ব্যস্ত থাকা-এসব ছিল পরিচিত চিত্র। কখনো ক্লাস চলাকালেও ফোন ব্যবহারের ঘটনা ঘটত, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া বিরোধ, অনলাইন হয়রানি বা অনুমতি ছাড়া ছবি ধারণের মতো ঘটনাও স্কুলের পরিবেশে প্রভাব ফেলত।

এই বাস্তবতায় ইংল্যান্ডে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৯ জুন থেকে বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা আইনগতভাবে অনুসরণযোগ্য (statutory guidance) হয়ে উঠেছে, আর সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে স্কুলগুলোকে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু ক্লাসে ফোন বন্ধ রাখা নয়-পুরো স্কুল-দিবসকেই মোবাইলমুক্ত রাখা।

  • আগে পরিস্থিতি কেমন ছিল

নিষেধাজ্ঞা জোরদার হওয়ার আগে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোর নীতিতে ব্যাপক পার্থক্য ছিলকোথাও ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কোথাও ব্যাগে বা লকারে রাখার নিয়ম, আবার কোথাও 'out of sight' নীতি চালু ছিল। সরকারি National Behaviour Survey অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছিল, অন্তত কিছু ক্লাসে শিক্ষার্থীরা অনুমতি ছাড়া মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করত। সরকারের ভাষ্যমতে, একজন শিক্ষার্থীর ফোন ব্যবহারের প্রভাব শুধু তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না-তা পুরো শ্রেণিকক্ষের মনোযোগ শৃঙ্খলায় প্রভাব ফেলে।

  • নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুলগুলোকে মূলত মোবাইল-ফোনমুক্ত পরিবেশ হিসেবে পরিচালনা করতে হবে। ক্লাস চলাকালে, এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে যাওয়ার সময়, বিরতি লাঞ্চের সময়সবখানেই ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। নোটিফিকেশন, মেসেজিং বা অডিও/ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধাসম্পন্ন অন্যান্য স্মার্ট প্রযুক্তিও এই নীতির আওতায় আসতে পারে। স্কুলভেদে বাস্তবায়নের পদ্ধতি ভিন্নকোথাও লকারে, কোথাও নিরাপদ পাউচে ফোন রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও দিনের শুরুতেই ফোন জমা নেওয়া হচ্ছে।

  • নিষেধাজ্ঞার প্রাথমিক ফল

সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ৩৮ শতাংশ শিক্ষক ক্লাসে অননুমোদিত ফোন ব্যবহারের কথা জানিয়েছিলেন, যা ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে-অর্থাৎ দুই বছরে ১৪ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস। যেসব স্কুল ফোন সংগ্রহ করে বা লকযোগ্য পাউচে রাখে, সেখানে শ্রেণিকক্ষের বিঘ্ন তুলনামূলক কম বলেও সরকারের পর্যবেক্ষণ।

  • সামাজিক আচরণেও পরিবর্তন

ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের SMART Schools গবেষণায় সাতটি স্কুলের ১৭৭ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক অভিভাবকের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফোন ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকলে শিক্ষার্থীরা বিরতির সময় বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশি যুক্ত হচ্ছে।

পশ্চিম লন্ডনের Ealing-এর Holy Family Catholic Primary School- চালু হয়েছে 'screen-free Monday' উদ্যোগ, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক অভিভাবক-সবাইকে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ট্যাবলেট থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করা হয়। Year 6-এর শিক্ষার্থী সোফি জানাশিয়ার উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম পরে পুরো স্কুল কমিউনিটির অংশ হয়ে ওঠে, যেখানে বই পড়া, হাঁটাহাঁটি, বোর্ড গেম বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো অফলাইন কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া হয়।

  • সব সমস্যার সমাধান নয়

তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, ফোন নিষেধাজ্ঞাকে শিক্ষার্থীদের আচরণ, সুস্থতা বা শিক্ষাগত ফলাফলের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। SMART Schools গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলে ফোন ব্যবহার করতে না পারায় কিছু শিক্ষার্থী বাড়িতে ফিরে ফোনে বেশি সময় কাটাচ্ছে, যার ফলে কারও ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম বা হোমওয়ার্কের সময় কমেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ভিক্টোরিয়া গুডইয়ারের ভাষায়, স্কুলের স্মার্টফোন নীতি একা সব সমস্যার সমাধান নয়।

স্কুলে ফোন ব্যবহার বন্ধ থাকলেও স্কুলের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গ্রুপ চ্যাটে তৈরি হওয়া বিরোধ স্কুলে এসে নতুন করে সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে। কারণে অনলাইন নিরাপত্তা ডিজিটাল সাক্ষরতা শেখানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • শিক্ষার্থী প্রাপ্তবয়স্কদের মতপার্থক্য

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (UCL) ২০২৬ সালের এক গবেষণায় ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৭৩২ শিক্ষার্থী, ২৭ শিক্ষক ৪১ অভিভাবকের মতামত নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষক অভিভাবক কঠোর ফোন নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করলেও শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এটিকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি। তাদের আশঙ্কা, ফোন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করলে কিছু সমস্যা-বিশেষ করে সাইবার বুলিং-শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

  • ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে

সরকারি নির্দেশনায় স্বীকার করা হয়েছে, চিকিৎসাগত প্রয়োজন, বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদা (SEND), সেফগার্ডিং পরিস্থিতি বা যাতায়াতের নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষার্থীর জন্য ব্যতিক্রম রাখা যেতে পারে। কিছু সেকেন্ডারি স্কুল নতুন ইয়ার সেভেন শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্টফোনের পরিবর্তে সাধারণ ('ব্রিক') ফোন ব্যবহারের ব্যবস্থাও করেছে।

সরকারের ২০২৬ সালের কনসালটেশনে ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা স্কুলে মোবাইল ফোন নীতিকে সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক করার পক্ষে মত দেন, আর প্রায় অর্ধেক মনে করেন এতে শিক্ষার্থীদের আচরণ, সুস্থতা শেখার মান উন্নত হতে পারে।

  • লন্ডনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

সামগ্রিক তথ্য বলছে, ক্লাসে ফোনজনিত বিঘ্ন কমেছে, বিরতির সময় মুখোমুখি যোগাযোগ বেড়েছে এবং কিছু পরিবারও নিজেদের স্ক্রিন-ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ে নতুন করে ভাবছে। তবে বাস্তবতা হলো, স্কুল থেকে ফোন সরিয়ে দিলেই শিশুর ডিজিটাল নির্ভরতা বা সাইবার বুলিং সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। লন্ডনের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি দূরে রাখার চেয়ে কখন, কোথায় কীভাবে তা ব্যবহার করা উচিত-সেটি শেখানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান নীতির সবচেয়ে কার্যকর মডেল হতে পারে: স্কুলে নিরবচ্ছিন্ন শেখার পরিবেশ, প্রয়োজনে ফোনের নিরাপদ ব্যবহার, অনলাইন নিরাপত্তা শিক্ষা এবং পরিবারের সচেতনতা-এই চারের সমন্বয়।

সূত্র: যুক্তরাজ্য সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, University of Birmingham SMART Schools গবেষণা, University College London গবেষণা