সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কিছু পোস্ট করার ক্ষেত্রে তরুণদের আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) লরেন এডওয়ার্ডস। নিজের ২০-৩০ বছর বয়সে করা কিছু বিতর্কিত ও আপত্তিকর পোস্টের কারণে খেসারত দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে নতুন করে ক্ষমা প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে (PA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এডওয়ার্ডস জানান, কোনো কিছু চিন্তাভাবনা না করে হুট করে অনলাইনে প্রকাশ করলে ভবিষ্যতে তা বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, অনেকেই অনলাইনে নিজের মনের মধ্যে যা আসে তা-ই বলে দেওয়াকে রাজনৈতিক সক্রিয়তা মনে করেন, যা একটি ভুল ধারণা।
- অতীতের বিতর্ক ও ক্ষমা প্রার্থনা
২০২৪ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে করা কয়েকটি পুরনো পোস্টের জন্য ক্ষমা চান লরেন এডওয়ার্ডস। তৎকালীন ওই পোস্টগুলোতে তিনি এস্তোনিয়ান নাগরিক, একটি হালাল রেস্তোরাঁ এবং পার্লামেন্টের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি একটি পোস্টে তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি অবমাননাকর ‘retards’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।
নিজের আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। দুঃখজনকভাবে তৎকালীন সময়ে সমাজে শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরনের আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার প্রচলিত ছিল। তবে সমাজ যে এখন সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক।" তিনি জানান, বর্তমানে তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায় ও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য একজন সোচ্চার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
- সোশ্যাল মিডিয়া ত্যাগ ও বাস্তব জীবনের গুরুত্ব
এমপি নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন লরেন এডওয়ার্ডস। এমনকি নিজের বিষয়ে অনলাইনে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা মন্তব্যও তিনি পড়েন না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, "আপনি যদি নিজের সম্পর্কে ভালো মন্তব্য বিশ্বাস করা শুরু করেন, তবে আপনাকে খারাপ মন্তব্যগুলোও বিশ্বাস করতে হবে।"
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বাস্তব জীবনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তার মতে, মহামারী আমাদের শিখিয়েছে অনলাইন জগতের চেয়ে বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা কতটা জরুরি।
- অ্যাসিস্টেড ডাইং (সহায়তাভিত্তিক মৃত্যু) বিলের নেতৃত্ব
সোশ্যাল মিডিয়া বিতর্কের বাইরে বর্তমানে লরেন এডওয়ার্ডস যুক্তরাজ্যের বহুল আলোচিত 'টার্মিনালি ইল অ্যাডাল্টস (এন্ড অফ লাইফ) বিল' বা সহায়তাভিত্তিক মৃত্যুর (Assisted Dying) আইনি বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়ার অন্যতম মুখ হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর হাউস অব কমন্সে এই বিলটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা খোলার দায়িত্বে থাকবেন এডওয়ার্ডস নিজে।
সংসদে বিলটির দায়িত্ব নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই বিলটি পাস করার ক্ষেত্রে যে বিতর্ক ও ব্যক্তিগত অস্বস্তি রয়েছে, তা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের যন্ত্রণার কাছে অত্যন্ত নগণ্য। যুক্তরাজ্যে একটি সঠিক ও মানবিক অ্যাসিস্টেড ডাইং আইন প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন এই এমপি।
সূত্র : দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট
-
সিলেট-ইস্তাম্বুল সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ, ইউরোপযাত্রায় খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার
-
লন্ডনের স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ: বদলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের আচরণ
-
টাওয়ার হ্যামলেটসে কস্ট অব লিভিং সহায়তায় আয়সীমা ৬০ হাজার পাউন্ড, জানালেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান
-
পূর্ব লন্ডনে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মশার প্রজনন শনাক্ত, স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা
-
যুক্তরাজ্যে সাপ্তাহিক ফুড ওয়েস্ট সংগ্রহে ৯,০০০ পরিবারের নতুন সাড়া