কুয়েতে নাগরিকত্ব হারানো নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের জন্য নতুন আবাসন ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদি নিয়মিত রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং একই সঙ্গে তাদের বার্ষিক রেসিডেন্সি ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
কুয়েতের মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নং ১৪১০/২০২৬-এর মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ২২৪৯ নম্বর মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্তের আওতায় জারি করা বিদেশিদের আবাসন আইনের নির্বাহী বিধিমালা সংশোধন করেছে। সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়াওম-এ প্রকাশের পর থেকেই নতুন বিধান কার্যকর হয়েছে।
- কারা পাবেন এই সুবিধা
নতুন Article 7 bis-এর আওতায় তাদের রাখা হয়েছে, যাদের কুয়েতি নাগরিকত্ব ১৯৫৯ সালের আমিরি ডিক্রি নং ১৫-এর ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর ধারার অধীনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ভরশীল হিসেবে কুয়েতি নাগরিকত্ব পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আদেশের আওতায় আসা ব্যক্তিরাও এ সুবিধার জন্য বিবেচিত হবেন—তবে তাদের নিজস্ব আগের বিদেশি নাগরিকত্বে ফিরে যেতে হবে অথবা অন্য কোনো নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে হবে।
যোগ্য ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য নিয়মিত আবাসনের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে দেশটির জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিচালকের। আবাসন অনুমতি প্রদান ও নবায়নের শর্ত এবং কুয়েতে কাজ করার অনুমোদনের নিয়মও কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
- বার্ষিক রেসিডেন্সি ফি লাগবে না
নতুন বিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—Article 7 bis-এর আওতায় আবাসন পাওয়া ব্যক্তিদের বার্ষিক রেসিডেন্সি ফি দিতে হবে না। সংশোধিত ফি-তালিকায় এই শ্রেণির জন্য বার্ষিক ফি 'অব্যাহতি' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ছয় মাসের বেশি বিদেশে থাকার নিয়মেও পরিবর্তন
সাধারণভাবে বৈধ রেসিডেন্সিধারী বিদেশিরা ছয় মাসের বেশি কুয়েতের বাইরে থাকতে পারেন না। তবে সংশোধিত Article 37-এ কয়েকটি শ্রেণিকে এই বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে—কুয়েতি নারীদের নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি সন্তান, কুয়েতে সম্পত্তির মালিক, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বিনিয়োগকারী এবং নতুন Article 7 bis-এর আওতায় আবাসন পাওয়া ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া অন্যান্য বৈধ রেসিডেন্সিধারীরাও নির্দিষ্ট শর্তে ছয় মাসের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকার অনুমতি পেতে পারেন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রেসিডেন্সির মেয়াদ বহাল থাকতে হবে।
- গৃহকর্মীদের জন্য চার মাসের নিয়ম
কুয়েতের বৈধ রেসিডেন্সিধারী কোনো গৃহকর্মী সর্বোচ্চ চার মাস দেশের বাইরে থাকতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি সময় বাইরে থাকতে হলে চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগে জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্সের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের বেশি দেশের বাইরে থাকলে ওই ব্যক্তির রেসিডেন্সি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
- পরিবারের সদস্যদের জন্য বছরে ১০ কুয়েতি দিনার
Article 7 bis-এর আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নিকট পরিবারের সদস্যদের জন্যও নির্ধারিত ফি রাখা হয়েছে। স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা অথবা মায়ের আবাসনের জন্য প্রতি ব্যক্তি বছরে ১০ কুয়েতি দিনার (KD10) ফি দিতে হবে।
একই ফি প্রযোজ্য হবে সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় নাগরিকত্ব হারানো কোনো উপসাগরীয় দেশের নাগরিকের নিকট পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও, যদি ওই ব্যক্তি তার আগের নাগরিকত্বে ফিরে গিয়ে থাকেন। তবে নিকট পরিবারের বাইরে অন্যান্য আত্মীয়দের জন্য আবাসন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ব্যক্তি বছরে ৩০০ কুয়েতি দিনার।
এ ছাড়া Article 7 bis-এর আওতায় থাকা ব্যক্তিদের স্পনসর করা গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে কুয়েতি পরিবার কর্তৃক স্পনসর করা গৃহকর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হারে ফি নেওয়া হবে।
কুয়েতের ফার্স্ট ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ সিদ্ধান্ত জারি করেন।
সূত্র: কুয়েত আল-ইয়াওম / কুয়েত মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নং ১৪১০/২০২৬
-
যুক্তরাজ্যকে সেন্সরশিপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের, বিবিসি-আইটিভি ইস্যুতে আপত্তি
-
ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার দাবি
-
ইতালিতে সাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশি তরুণের, কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
-
ছেলে যুবরাজ শেখ হামদানের ২০ বছর পূর্তিতে আবেগঘন চিঠি লিখলেন বাবা শেখ মোহাম্মদ
-
পাতায়ায় মার্কিন রণতরী ভেড়ার আগে যৌনকর্মী ঠেকাতে পুলিশি অভিযান
আরও পড়ুন: