যুক্তরাজ্যে পার্সোনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স পেমেন্ট (পিআইপি) ও অন্যান্য ডিজেবিলিটি বেনিফিট নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৩৯ লাখ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি বর্তমানে পিআইপি গ্রহণ করেন, তাই এই পরিবর্তনগুলো সরাসরি প্রভাব ফেলবে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের ওপরও। নিচে তুলে ধরা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো।
- পিআইপি পুনর্মূল্যায়নের মেয়াদ বাড়ানো
গত ২ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন প্রবিধানের আওতায় ডিডব্লিউপি এখন বিদ্যমান পিআইপি অ্যাওয়ার্ডের মেয়াদ পুনর্মূল্যায়ন ছাড়াই বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে। এই ক্ষমতা শুধু ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী দাবিদারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মূল উদ্দেশ্য হলো পুনর্মূল্যায়নের দীর্ঘ জট কমানো এবং মুখোমুখি মূল্যায়নের জন্য অ্যাসেসরদের সময় বের করা। ইতিমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি দাবিদারের অ্যাওয়ার্ড বাড়ানো হয়েছে বা বাড়ানো হবে, যাদের অ্যাওয়ার্ড ২০২৬, ২০২৭ বা ২০২৮ সালের প্রথমার্ধে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়াদ এক থেকে চার বছর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও কম বা বেশি সময়ের নজির মিলেছে। যাঁদের অ্যাওয়ার্ড বাড়ানো হবে, তাঁরা ডিডব্লিউপির কাছ থেকে চিঠি পাবেন নতুন মেয়াদ নিশ্চিত করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অ্যাওয়ার্ড বাড়ানো হলেও দাবিদারের নিজের শারীরিক বা মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তা ডিডব্লিউপিকে জানানোর দায়িত্ব একই রকম থেকে যায়। কারও অবস্থা খারাপ হলে অপেক্ষা না করে দ্রুত ডিডব্লিউপিকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বেনিফিট বিশেষজ্ঞরা।
- সব মূল্যায়ন এখন অডিও রেকর্ড করা হচ্ছে
গত ২৯ জুন ২০২৬ থেকে পিআইপি ও ওয়ার্ক ক্যাপাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট (ডব্লিউসিএ)-এর জন্য টেলিফোন ও মুখোমুখি সব মূল্যায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিও রেকর্ড করা শুরু হয়েছে, তবে দাবিদার চাইলে রেকর্ডিং থেকে অপ্ট-আউট করতে পারবেন। ভিডিওর মাধ্যমে পরিচালিত মূল্যায়নের অডিও রেকর্ডিং সুবিধা এখনো চালু হয়নি, তবে ডিডব্লিউপি এ নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
মুখোমুখি মূল্যায়ন বাড়ছে
আগে পিআইপির ক্ষেত্রে মাত্র ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউসিএ-র ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ মূল্যায়ন মুখোমুখি হতো। এখন এই হার বাড়িয়ে উভয় ক্ষেত্রেই ৩০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখোমুখি মূল্যায়ন বাড়ার ফলে সফল দাবির হার কিছুটা কমতে পারে।
- ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের হেলথ এলিমেন্টে পরিবর্তন
২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে নতুন যাঁরা ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের হেলথ এলিমেন্টের (আগে যা এলসিডব্লিউআরএ এলিমেন্ট নামে পরিচিত ছিল) জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের জন্য এই এলিমেন্টের হার ২০২৪-২৫ সালের সপ্তাহে ৯৭ পাউন্ড থেকে কমিয়ে সপ্তাহে ৫০ পাউন্ডে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এই হেলথ এলিমেন্ট মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বাড়ানো বন্ধ (ফ্রিজ) রাখা হয়েছে। তবে গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য একটি নতুন সিভিয়ার ডিজেবিলিটি প্রিমিয়াম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এর বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।
- পিআইপি যোগ্যতার শর্তে কোনো পরিবর্তন এখনো হয়নি
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিআইপি ‘কাটছাঁট’ বা ‘বাতিল’ হওয়ার নানা গুজব ছড়ালেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত পিআইপির যোগ্যতার মূল শর্তে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে প্রস্তাবিত ৪-পয়েন্ট নিয়ম (অর্থাৎ একক কোনো কার্যক্রমে অন্তত ৪ পয়েন্ট পেতে হবে এমন শর্ত) বাতিল হয়ে গেছে হাজার হাজার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি ও কেয়ারারদের প্রতিবাদ ও প্রচারণার ফলে। বর্তমানে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী দাবিদারদের অন্তত ৮ পয়েন্ট পেতে হয়, যা বিভিন্ন কার্যক্রম মিলিয়ে অর্জন করা যায়।
- টিমস রিভিউ: বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসবে শরতে
সোশ্যাল সিকিউরিটি ও ডিজেবিলিটি প্রতিমন্ত্রী স্যার স্টিফেন টিমসের নেতৃত্বে পিআইপি মূল্যায়ন পদ্ধতির উপর একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে, যা ‘টিমস রিভিউ’ নামে পরিচিত। এটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি ও তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। গত ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত চলা জনমত আহ্বানে ৩৮ হাজারেরও বেশি সাড়া জমা পড়েছে। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই পর্যালোচনা সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং সংশ্লিষ্ট আইন সংসদে পাস হওয়ার আগে পিআইপির যোগ্যতার মানদণ্ডে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। রিভিউয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী শরৎকালে (অটাম ২০২৬) জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
- বেনিফিটের হার বৃদ্ধি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পিআইপি, ডিজেবিলিটি লিভিং অ্যালাউয়েন্স (ডিএলএ), অ্যাটেনডেন্স অ্যালাউয়েন্স ও কেয়ারার্স অ্যালাউয়েন্সসহ মূল ডিজেবিলিটি বেনিফিটগুলো ৩.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির হারের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে।
- বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সুবিধাভোগীদের জন্য করণীয়
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যাঁরা ইতিমধ্যে পিআইপি পাচ্ছেন, তাঁরা স্বাভাবিক নিয়মেই দাবি অব্যাহত রাখবেন এবং সংস্কারের গুজব শুনে আতঙ্কিত হবেন না। নতুন করে আবেদন করতে চাইলে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ীই আবেদন করা উচিত, বিলম্ব না করে। নিজের শারীরিক বা মানসিক অবস্থার প্রকৃত পরিবর্তন হলে তা ডিডব্লিউপিকে জানানো, ডিডব্লিউপির কোনো সিদ্ধান্তে দ্বিমত থাকলে ম্যান্ডেটরি রিকনসিডারেশন ও আপিলের সুযোগ ব্যবহার করা, এবং টিমস রিভিউয়ের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে নজর রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ডিডব্লিউপির চিঠি এলে তা মনোযোগ দিয়ে পড়া এবং জিপি বা কনসালট্যান্টের চিঠিপত্র সংরক্ষণ করে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বেনিফিট উপদেষ্টারা।
সূত্র: বেনিফিটস অ্যান্ড ওয়ার্ক, স্কোপ, কেয়ারার্স ইউকে, নো ইওর রাইটস ইউকে ও গভ.ইউকে
-
টেমস ওয়াটারকে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানায় ফেরানোর দাবি আপসানা বেগম এমপির
-
১ কোটির বেশি গ্রাহকের জন্য হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা টেমস ওয়াটারের
-
HMRC থেকে জরুরি সতর্কবার্তা: চাইল্ড বেনিফিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ৩১ আগস্টের মধ্যে জানাতে হবে সিদ্ধান্ত
-
বার্মিংহামে ছয় হাজার পাউন্ডের বৈধ ই-বাইক ধ্বংস করল পুলিশ, ভুল স্বীকারে নারাজ
-
প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের মন্ত্রিসভা: চ্যান্সেলর হিলি, পররাষ্ট্রে মিলিব্যান্ড, স্বরাষ্ট্রে মাহমুদ
আরও পড়ুন: