ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যে চরম পানিসংকট ও বন্যাঝুঁকি: ‘হতে পারে ব্যাপক প্রাণহানি’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

যুক্তরাজ্যে চরম পানিসংকট ও বন্যাঝুঁকি: ‘হতে পারে ব্যাপক প্রাণহানি’

যুক্তরাজ্যের জরাজীর্ণ বাঁধ, কৃত্রিম জলপথ (অ্যাকুয়াডাক্ট) এবং খালের জরুরি সংস্কার করা না হলে আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী লর্ড দেবেন (জন গামার) জলবায়ু পরিবর্তন, কয়েক দশকের কম বিনিয়োগ এবং ভিক্টোরিয়ান আমলের অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে যুক্তরাজ্য তীব্র বন্যা বা গ্রীষ্মকালীন খরা মোকাবিলায় মোটেও প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহীকান্ট্রি লাইফম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কনজারভেটিভ পার্টির এই প্রবীণ নেতা (যিনি পরিবেশ অধিদপ্তর বা এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন) লিখেছেন, আসন্ন এই বিপর্যয়ের মূল্য "মানুষের জীবন দিয়ে শোধ করতে হতে পারে।"

  • বিপর্যয় এড়াতে লর্ড দেবেনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ:

সামনের বাগান পাকা করা নিষিদ্ধ করা: আবাসিক এলাকার বাড়ির সামনের বাগান কংক্রিট দিয়ে পাকা করে পার্কিং লট বানানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মাটি ঢেকে ফেলার কারণে বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করতে পারে না, যা আকস্মিক বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ।

নতুন জলাধার বা রিজার্ভার নির্মাণ: গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ডে কোনো নতুন বড় জলাধার তৈরি করা হয়নি। তীব্র দাবদাহ পানির সংকটের মধ্যেও এই উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

খাল নদী রক্ষা ট্রাস্টের (CRT) বাজেট কর্তন বন্ধ করা: প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের পরিকল্পিত বাজেট কর্তনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই বাজেট কমানো হলে তা সরাসরি মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

কৃষকদের সহায়তা বনায়ন: বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য কৃষকদের গাছ ঝোপঝাড় রোপণ এবং খামারের পুকুরগুলো সংস্কারে সরকারি সহায়তা দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

  • বৈজ্ঞানিক সতর্কতা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

চলতি বছরের শুরুর দিকে নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যের শীতকাল আশঙ্কাজনক হারে আর্দ্র হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার বিপরীতে শীতকালীন বৃষ্টিপাত প্রায় শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগের সব জলবায়ু মডেলের ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে।

লর্ড দেবেন আরও মনে করিয়ে দেন যে, কেবল সাধারণ মানুষের পানির চাহিদাই নয়, আধুনিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি ডাটা সেন্টারগুলোর জন্যও বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন। এছাড়া বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের কারণে ভবিষ্যতে খাদ্য আমদানির উৎস দেশগুলোও চরম পানির সংকটে পড়বে, যা যুক্তরাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

তবে সাবেক এই পরিবেশ মন্ত্রী আশাবাদী যে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এখনই কিছু কঠিন দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তবে এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: কান্ট্রি লাইফ ম্যাগাজিন (Country Life), নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি এবং এএফপি (AFP)